থার্টিফার্স্ট নাইট। উৎসবের অন্যতম একটি রাত। বিগত সময়ে গোটা রাত রাজধানীজুড়ে চলতো হইহুল্লোড় ও আনন্দ-উল্লাস। তবে এবার সেই উৎসবে কিছুটা বাধ সেধেছে প্রশাসন। এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে- নিরাপত্তাজনিত কারণে রাত ৮টার পর কেউ ঘরের বাইরে থাকতে পারবেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। হঠাৎ জেএমবির জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। তাই এ সময়ে সবাই সতর্ক থাকাই শ্রেয়। সেজন্যই তারা থার্টিফার্স্ট নাইটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনুষ্ঠান ও উৎসবের ক্ষেত্রে ভালোর জন্যই কিছু বিধি-নিষেধ জারি করেছেন।
গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ কূটনৈতিক জোনে রাত ৮টা এবং হাতিরঝিল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই বহিরাগতদের যানবাহন নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ভোর ৫টা পর্যন্ত এ বিধি-নিষেধ কার্যকর থাকবে বলেও জানান ডিএমপির জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গির আলম সরকার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনও ধরনের আনন্দ-উল্লাস ও আতশবাজি করা যাবে না। বন্ধ থাকবে মদের বারগুলো। তবে ঘরের মধ্যে কেউ চাইলে আনন্দ-ফুর্তি করতে পারবে। রেস্তোরাঁ, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলোর ঘরোয়া আয়োজনে বাধা দিবে না পুলিশ। তবে আগে থেকে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রগুলো নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে। দেশের বিভিন্নস্থানে টার্গেট কিলিং হচ্ছে। সেসব বিবেচনায় নিয়েই থার্টিফার্স্ট নাইটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসবের কারণে যাতে সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় না পড়েন এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এ পরামর্শ দেন। ওইদিন যেকোনও আনন্দ-উৎসব পালনের আগে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করতেও বলেছেন তিনি।
/এএইচ/








