ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিষ্ঠান এম জি প্রপার্টির্জের বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেতের তিনশ’ ফিট রোড সংলগ্ন বেপারিপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন। বুধবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ শহীদুল ইসলাম বেপারি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, তার চার শতাংশ জমি ক্ষমতাবলে জোর করে নামজারির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এম জি প্রপার্টিজ। এছাড়া তাকে বিভিন্ন মামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানিও করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি তার জমির কাগজপত্র নিয়ে তৎকালীন মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। মেয়র বলেছিলেন, যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে তবে তা সমাধান করে দেওয়া হবে। তখন তিনি তার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজনকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপর বারবার তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুরলেও সমাধান হয়নি। চার বছর অতিবাহিত হয়েছে। এম জি প্রপার্টিজ সমস্যার সমাধান না করে উল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
শহীদ বেপারির কাছে থাকা কাগজপত্র থেকে জানা যায়, সিএস ও এসএ দাগ নং ১৭৮৫, আর এস দাগ নং ২৬৮৬, সিটি দাগ নং ২৪৮২২ দাগের চার শতাংশ জমি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সাফ কবালা দলিলে নিজেদের আয়ত্তে নেয়।
শহীদ বেপারি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই দাগের অপর চার শতাংশ জমি এম জি প্রপার্টিজ কিনে নেয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুরো দশ শতাংশ জমি প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাবলে দখল করে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করলেও কোনও সুরাহা হয়নি। আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। এরপরেও তাদের প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এরপর আমি থানায় জিডি করি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাকে ডেকে নিয়ে তিনি এবং উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন দখলদারদের পক্ষ নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার অধিবাসী। প্রায় ২০০ বছর ধরে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা সেখানে বসবাস করে আসছেন। জমিতে আমাদের বাড়িঘর রয়েছে। প্রয়াত মেয়র একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার ছেলেও ভালো বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু একদল দালাল বা তাদের অফিসের লোক ভুল বোঝাতে পারে।’








