খালেদার বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:৩৩আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৪:০৩

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ‘আমরা গর্বিত বাঙালি’ নামের একটি সংগঠনের ডাকা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখপ্রকাশের জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং তাকে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের নিয়ে যে কোনও মন্তব্য করার আগে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তিনি মন্তব্য প্রত্যাহার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে সদলবলে গুলশানে এসে পৌঁছান ‘আমরা গর্বিত বাঙালি’-র নেতা-কর্মীরা। তবে পুলিশ তাদের গুলশান দুই নম্বর গোল চত্বরের কাছেই আটকে দেয়। একইসঙ্গে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ও এর আশপাশের রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গুলশান দুই নম্বর গোল চত্বরে বাধা পেয়ে সেখানেই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন এবং মিছিল করে খালেদা জিয়ার করা মন্তব্যটির প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এতে অংশ নেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতি মন্ত্রী তারানা হালিম, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর প্রিয়ভাষিনী,একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল,শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তান ও স্বজনেরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ফেসবুকে এ ইভেন্টটি তৈরি করে আজ মঙ্গলবার প্রতিবাদ কর্মসূচিটির ডাক দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

প্রতিবাদ মিছিল শেষে কর্মসূচির সমাপনী ঘোষণার সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তারানা হালিম বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি এক বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতির জন্য অবমাননাকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছেন। তার এ মন্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক জনতারা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠানো হতাশার। তাই খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে বাঙালি হিসেবে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা দাবি করছি খালেদা জিয়া এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের বিষয়ে মন্তব্য করার সময় বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন। তবে তিনি যদি তার মন্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো এবং তাকে মন্তব্য প্রত্যাহারে বাধ্য করে ছাড়বো। 

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেন কটূক্তি করা না যায়, এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইন করারও দাবি জানান তিনি।

এ সময় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যা, তা একটি কথায় প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিনে তিনি কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। তাকে আর নতুন করে কী চিনব? তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা উচিত। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। তিনি বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তার এই বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদের সংখ্যাটিকে তীর্যক দৃষ্টিতে নিয়ে এ মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে পুলিশি নিরাপত্তা
ফেসবুকে সংগঠনটি তাদের কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানিয়েছে-মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মপরিচয়ের আরেকটি নাম। স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তারা আমাদের সম্মান,আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। ক্রমাগত মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা,শহীদের সংখ্যা,শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অসম্মান করে খালেদা জিয়া ও তার দলের নেতারা একের পর এক অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিয়ে আমাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত দিয়ে চলেছেন। আসুন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাই এর প্রতিবাদ করি। ‘আমরা গর্বিত বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার’ এই শ্লোগান দিয়ে এই ঔদ্ধত্য রুখে দাঁড়াই।
এই কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানেরা, শিক্ষক, ডাক্তার, সংস্কৃতিকর্মী, ছাত্রসমাজ, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

গুলশানে খালেদা জিয়ার বাড়ির অভিমুখে বিক্ষোভ

এ প্রসঙ্গে চলতি মাসের ২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, ‘আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি খালেদার বাড়ির সামনে প্রতিবাদ জানাতে যান। বিএনপি এবং তাকে দেখান যে তার পাকি প্রভুরা এবং জামায়াতি পোষা গুন্ডারা আমাদের ভাই এবং বোনদের যে হত্যা করেছে সেই স্মৃতি অপপ্রচার চালিয়ে মুছে ফেলা যাবে না। আমার সাথে একত্রে দাবি জানান, খালেদা পাকিস্তানে ফিরে যা।’

ছবি: আকবর হোসেন

/সিএ/এসএম/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম