রাজধানীর আদাবরে মানসিক হাসপাতালে মারধরের ঘটনায় পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় হাসপাতালের দুই কর্মচারী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের সামনে তানিফ মোল্লা ও তানভীর হাসান নামে ওই দুই কর্মচারী জবানবন্দি দেন। এরপর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মনির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা।।একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, ১৫ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ উর রহমান আসামি শেফ মাসুদ ও অসীম চন্দ্র পালের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ১৬ নভেম্বর মাইন্ড এইডের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় ও সজীব চৌধুরী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ মামলায় গত ১০ নভেম্বর দশ আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তারা হলেন মাইন্ড এইডের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, শেফ মাসুদ, ওয়ার্ড বয় জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, লিটন আহাম্মদ, সাইফুল ইসলাম পলাশ ও ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান।
গত ১০ নভেম্বর আদাবর থানায় নিহতের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিম নিহতের ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনও অনুমোদন নেই, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কোনও অনুমোদন নেই, নেই কোনও চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরে নিহত হন আনিসুল করিম শিপন। তিনি ৩১তম বিসিএস পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
আরও পড়ুন:
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. মামুন রিমান্ডে
মানসিক হাসপাতালে মারধরে এএসপির মৃত্যুর অভিযোগ
এএসপি শিপন হত্যা: মাইন্ড এইডের পরিচালক রিমান্ডে








