সব ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার চান মানবাধিকারকর্মীরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৮আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৩

ঢবি ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

১৩ কার্যদিবসে শেষ হয়েছে ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম। রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলার একমাত্র আসামি মজনুকে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচারের এই প্রক্রিয়াকে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মীরা।  একইসঙ্গে সব মামলার দ্রুত বিচার চান তারা। তবে দ্রুত বিচার হলেও ন্যায়বিচারও যেন হয়, সেদিকেও সর্তক থাকার পরামর্শ মানবাধিকার কর্মীদের।

রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নারী নেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা লড়াই করেছি ধর্ষণের বিচার দ্রুত হোক।  দ্রুত বিচারের এ প্রক্রিয়াটা বলা যায় ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের ফসল।  আন্দোলনের ফলে  আইনের পরিবর্তন হয়েছে, বিচার ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’

রোকেয়া কবীর বলেন, ‘একটা সময় এসব বিষয়ে সচেতনতা ছিলে না। মামলার চার্জশিট দিতে পুলিশের গা-ছাড়া ভাব ছিল। আইনের সুনির্দিষ্ট ব্যাখা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যেতো। কিন্তু মানুষ সচেতন হওয়ায়, আন্দোলন হওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও আমরা দেখলাম, জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার সময় একজন সংসদ সদস্য বিরূপ মন্তব্য করলেন। তার বক্তব্য সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। আমরা তার বক্তব্য এক্সপাঞ্চ ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আজকে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছি।’

নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শাহীন আনাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে কোনও কোনও ঘটনায় হইচই পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীও সে বিষয়ে অ্যাটেনশন দেন। তখন দেখা যায়, আলোচিত ঘটনাটির রায় দ্রুত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বেশিরভাগ মামলার রায় দ্রুত হচ্ছে না। যে মামলা করেন, তিনি  দীর্ঘ সূত্রতায় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।’

দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে শাহীন আনাম বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, বিচার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের খামখেয়ালি ভাব। কিন্তু যার যে দায়িত্ব, সে যদি সঠিক সময় সে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই দ্রুত সময়ে বিচার সম্ভব।’

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শাস্তি বাড়িয়ে কখনও অপরাধ কমানো যায় না। ফাঁসি দিয়ে ধর্ষণ বা অন্য অপরাধ কমানো যাবে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে  আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে অপরাধীরাও বের হওয়ার চেষ্টা করে।’

তিনি বলেন, ‘কারও ফাঁসির রায় দিতে গেলেও বিচারকরা সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করেন। অপরাধীর অপরাধ নিশ্চিত হতে চান। সেই সুযোগে আসামিপক্ষও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চালায়।  অপরদিকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়বে। যেহেতু  অপরাধ কী তা জেনে গেলে তার ফাঁসি হতে পারে, এজন্য ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে নূর খান লিটন বলেন, ‘আমরা বিচারের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে একইসঙ্গে যৌক্তিক বিচার চাই। বিচার প্রক্রিয়া যেনো যৌক্তিক সময়ে হয়। তাড়াহুড়ো করতে যেয়ে যেনো কোনও ভুল না হয়।’

 

/সিএ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম