দেশে প্রতি মাসে ১০৮ ধর্ষণ!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১০আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১২

দেশে প্রতি মাসে ১০৮ ধর্ষণ! দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী, এর মধ্যে ২০৮টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই হিসাবে দেখা যায়, প্রতি মাসে প্রায় ১০৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে এ তথ্য তুলে ধরেছে ‘আমরাই পারি জোট’ নামে একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নির্বাহী সমন্বয়ক জিনাত আরা হক এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ ৯ মাসে ৯৭৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন,ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ২০০ জন নারী এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জন নারীকে এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। এছাড়া যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। আর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছেন ৩ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ।’

তিনি জানান,, গত ৯ মাসে শিশু নির্যাতন ও হত্যার এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬২৭ জন ও বলাৎকারের শিকার হয়েছে ২০টি শিশু। এক হাজার ৭৮টি শিশু শারীরিক নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার শিকার হয়েছে। এসময় হত্যার শিকার হয়েছে ৪৪৫টি শিশু। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৩২ জন নারী। এর মধ্যে হত্যার শিকার হন ২৭৯ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৭৪ নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬৮ নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭৩ জন। যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬৬ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন নারী। এছাড়াও বাল্যবিয়ে, অপহরণ ও অন্যান্য নির্যাতনের অর্ধশতাধিক ঘটনা ঘটেছে।
‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের’ নির্বাহী সমন্বয়কারী লিখিত বক্তব্যে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে। উচ্চ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে। হাইকোর্টের দেওয়া ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ সফল করতে হবে এবং ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আইন ও নারী নির্যাতনবিরোধী আইনকে সংশোধন করে সময়োপযোগী করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে জোটের উপদেষ্টা মাহফুজা খানম, কো-চেয়ারম্যান শাহীনা আনাম যুক্ত হন। এসময় নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার ৫টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসও/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম