রাত পোহালেই ভোট: এ যেন জাতীয় নির্বাচন

এমরান হোসাইন শেখ
৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০২আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৮:০৪

পৌর নির্বাচন রাত পোহালেই শুরু হবে বহুল প্রত্যাশিত পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ‘এসিড টেস্ট’ মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।  দু’দলই তাদের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজিনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এই নির্বাচনে পুরোটাই যেন জাতীয় নির্বাচনের আমেজ পড়েছে।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ২০টি রাজনৈতিক দলের ৬৬০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না জামায়াত। তবে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশকিছু পৌরসভায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জামায়াত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীসহ ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন।
পৌর নির্বাচনে ‘প্রেস্টিজ ইস্যুতে’ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।  নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও দুই জোটের শরিক দলের প্রার্থীদের ভোটের মাঠে মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধান এই দুই রাজনৈতিক দলকে। সেই সাথে ক্ষমতায় থাকায় ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগকে।

নির্বাচনে সবমিলিয়ে ১২ হাজার ১৭১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৭৪৬জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৪৮০জন প্রার্থী রয়েছেন। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে ভোট হবে। সর্বশেষ ২০১১ সালে চার ধাপে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবার পৌর নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ছাড়াও ১৪ দলীয় জোটভুক্ত শরিকদলের প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। দেশের ৬৮ পৌরসভায় নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর মোকাবেলা করতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন এ দলকে। তবে দলীয় প্রার্থীরা ৭টি পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তারা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে ৯ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি প্রার্থীদের আওয়ামী লীগ ছাড়াও ২৬টি পৌরসভায় নিজ দলের বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পৌর নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতার পালাবদল না হলেও এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২৩৪টি পৌরসভার সবগুলোতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী ২২৩টি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৭৪টি পৌরসভায় বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের বিপরীতে লড়ছেন। ৩৬টি পৌরসভায় ১৪ দলীয় জোটভুক্ত ৪টি শরিক দলের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে কাজ করছেন। এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৬টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৮টি ও তরিকত ফেডারেশনের ১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিগত সংসদ নির্বাচনে ১৪দলীয় জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে নির্বাচন করে এবং সরকারও গঠন করে। তবে পৌর নির্বাচনে জোটগত নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় দলগুলো আলাদাভাবে পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

অপরদিকে দলের বিদ্রোহীর পাশাপাশি শরিকদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে বিএনপিকে। অন্তত দুই ডজন পৌরসভায় ‘স্বতন্ত্র’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ দলীয় জেটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া দলীয় প্রতীক নিয়েই ২০ দলীয় জোটের ৫টি শরিক দলের ৮জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে দুই জোটের বাইরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ১টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি ১টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ১টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৭টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩টি ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি পৌরসভায় প্রার্থী রয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬টি পৌরসভায় এগিয়ে ছিল। ওই সময়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও দলগুলো সরাসরি প্রার্থী সমর্থন দিয়েছিল। ২০১১ সালের ১২ থেকে ১৯ জানুয়ারি চার ধাপে অনুষ্ঠিত ২৪২ পৌরসভা ভোট হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ফলাফল ঘোষিত ২৩৬টি পৌরসভায় বিদ্রোহীসহ ১০৯টি আওয়ামী লীগ ও ১০৩টিতে বিদ্রোহীসহ বিএনপি জয় পেয়েছিল। এ ছাড়া জামায়াতের ৫ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, এলডিপির ১ জন ও নির্দলীয় ১৬ জন মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এবার পৌর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় ৭টিতে মেয়র পদে ভোট হচ্ছে না, কাউন্সিলর পদে ভোট হবে। পৌরসভাগুলো হচ্ছে- পিরোজপুর, মাদারগঞ্জ, টুংগীপাড়া, ফেনী, পরশুরাম, চাটখিল ও ছেংগারচর। বাকি ২২৭টি পৌরসভায় আজ বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলাফলের অনুলিপি তাৎক্ষণিক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে পাঠাতে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ফলাফল কমিশন থেকে পাওয়া যাবে।

নির্বাচনে ২ হাজার ১৯৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ৮ হাজার ৭৪৬জন এবং ৭৩১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ২ হাজার ৪৮০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌর এলাকার ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪জন ভোটার ৩ হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্র ও ২১ হাজার ৭১টি বুথে আজ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪জন ও নারী ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০ জন। নির্বাচনে মোট ৬৬ হাজার ৭৬৮জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা থাকবেন। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৩ হাজার ৫৫৫জন ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২১ হাজার ৭১ জন, পোলিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ১৪২ জন।

ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে পৌর এলাকাগুলোতে এক লাখ ১৭ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচানি এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে নির্বাচনি এলাকায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য টহল শুরু করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২০৪জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। আইন ও বিধি লংঘনকারীদের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

/এফএ/

 

নির্বাচনি এলাকার তথ্য

পৌরসভার সংখ্যা

ওয়ার্ড সংখ্যা

ভোট কেন্দ্রের সংখ্য

ভোটকক্ষের সংখ্যা

ভোটার সংখ্যা

সংরক্ষিত

সাধারণ

পুরুষ

নারী

মোট

২৩৪

৭৩১

২১৯৩

৩৫৫৫

২১০৭১

৩৫৫২২৮৪

৩৫৪৬৮৬০

৭০৯৯১৪৪

 

ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা

পৌরসভার সংখ্যা

প্রিজাইডিং অফিসার

সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার

পোলিং অফিসার

মোট

২৩৪

৩৫৫৫

২১০৭১

৪২১৪২

৬৬৭৬৮

 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী

পৌরসভার সংখ্যা

মেয়দ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী

সাধারন ওয়ার্ডের পদে প্রতিদ্বন্দ্বী

মোট

২৩৪

৯৪৫

২৪৮০

৮৭৪৬

১২১৭১

 

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী

আ.লীগ

বিএনপি

জাতীয় পার্টি

ই.আ.বা.

জাসদ

এনপিপি

অন্যান্য দলের মোট প্রার্থী

রাজঃ দলের মোট প্রার্থী

স্বতন্ত্র মোট

মোট প্রার্থী

২৩৪

২২৩

৭৪

৫৭

২১

১৭

৩৪

৬৬০

২৮৫

৯৪৫

সূত্র: নির্বাচন কমিশন

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম