দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলায় একই কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে দুদকের একই কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করাতে কোনও বাধা রইলো না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। আর রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ ও শাহদীন মালিক ।
বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শামসুল আলম। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন মো. শামসুল আলম। অভিযোগপত্রে আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩২ কোটি ২০ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৬ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় গত ৩ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।
মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ২৪(১) বিধি চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। রিটে একই ব্যক্তি দিয়ে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিটে বলা হয়, একই কর্মকর্তা কর্তৃক দুদকের মামলার অনুসন্ধান ও তদন্ত সংবিধানের ২৯ ও ৩০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট বিধিতে বলা হয়েছে, আইনের তফসিলভুক্ত কোনও অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তদন্ত একই কর্মকর্তা দ্বারা সম্পন্ন করা যাবে।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। রুলে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো সংক্রান্ত ২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর সংশোধিত বিধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রিট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে চলমান মামলা কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চান আদালত।
রুলের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুসন্ধান কর্মকর্তা অভিযোগের অনুসন্ধান করে মেমো অব এভিডেন্স জমা দেন। এরপর তা কমিশনের লিগ্যাল উইংয়ে যায়। এরপর কমিশন অনুমোদন করলে এজাহার দাখিল করা হয়। নিয়োগ হয় তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার অভিযোগ তদন্ত করে মেমো অব এভিডেন্স জমা দেন। এটাতেও কমিশনের অনুমোদন লাগে। কমিশন সন্তুষ্ট হলে তখন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তাই একই ব্যক্তি অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তা হলেও যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ নেই।
এদিকে গত ১৭ নভেম্বর এ মামলায় হাইকোর্টে রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। এরপর মামলাটিতে জারি করা রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।








