‘জেন্ডার বৈষম্য বিষয়ক আলোচনায় আমরা পুরুষদের বাদ দিয়ে ফেলি, ফলে আমাদের আলোচনা সফলতা লাভ করে না’, বলে মন্তব্য করেছেন উন্নয়নকর্মী শিফা হাফিজা।
তিনি বলেন, ‘এজন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা ছোটবেলা থেকেই তৈরি করতে হবে।’
বুধবার (৯ ডিসেম্বর) জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে ও অ্যাড’কো বাংলাদেশের সহায়তায় ‘ছেলে শিশু ও পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আমাদের করণীয় ’ শীর্ষক অনলাইন সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্টারি ককাস অন চাইল্ড রাইটস-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু এবং সহসভাপতি সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মেহতাব খানম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি।
অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সভার আলোচনার সারমর্ম করে একটি প্রস্তাবনা ককাস অন চাইল্ড রাইটস-এর সভাপতির মাধ্যমে সংসদে বেসরকারি বিল হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়াও প্রস্তাবনাটি আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিশু বা মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু বলেন, ‘সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর পরিবার থেকে বিভাজন করে দেওয়া হয় ছেলে-মেয়ের আচরণ নির্ধারণ করে। এই জায়গা থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম অনেকগুলো প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। সরকার প্রস্তাবগুলো নিয়ে নিশ্চয় ভাববে। কিন্তু পরিবার থেকেও আমাদের ভাবতে হবে, পরিবারকে শিক্ষা দিতে হবে যে, সন্তান ছেলে-মেয়ে হোক একই আচরণ করতে হবে। ’
অ্যারোমা দত্ত বলেন, ‘সাইকো সোশাল কাউন্সিলিং অবশ্যই দরকারি। একইসঙ্গে আমাদের কালচারের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে কীভাবে এটি নিয়ে আসা যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কন্যাশিশুদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি ও বৈষম্যের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে জাতীয় কন্যাশিশু ও অ্যাডভোকেসি ফোরাম গঠিত হয়।’
সাধারণত নারীরা পুরুষদের দ্বারা নিগ্রহের শিকার হয়, এই পুরুষদের বিরাট অংশ বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগেন। নারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়। কিন্তু পুরুষদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা তেমন একটা হয় না। ’
ড. মেহতাব খানম বলেন, ‘আমাদের মনোযোগ প্রতিকারের জায়গায়, কিন্তু প্রতিরোধের জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছি না। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টা লক্ষ্য করছি। যখন অবস্থা খারাপের দিকে যায়, তখন আমরা মানসিক সমস্যা প্রকাশ করি। কেউ মানসিক সমস্যা প্রকাশ করতে চান না। পুরুষরা মেয়েদের তুলনায় একদমই প্রকাশ করতে চান না। অথচ মানসিক সমস্যার বীজ ছোটবেলা থেকেই বপণ হয়। তাই আমাদের এসব সমস্যা প্রতিকারে জোর দিতে হবে।’
ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘সমাজের ভাষা থেকে শুরু করে চিন্তা প্রক্রিয়ায় সর্বত্র নারীর প্রতি অবমাননার চর্চা করা হয়। কাজেই এর থেকে মুক্তি পেতে হলে একটা সামগ্রিক অ্যাপ্রোচ দরকার।’








