মুক্তিযোদ্ধাদের মতো আমাদেরও দেশকে ভালোবাসতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গুলশান ২ নম্বরে নগর ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় মেয়র এ কথা বলেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন, অথচ আমরা কি এই শহরকে একটু ভালোবাসতে পারি না? আমরা কি নির্দিষ্টস্থানে ময়লা ফেলতে পারি না? আমরা কেন শুধু চিন্তা করি আমি আমি আমি। কেন আমরা বিভিন্ন নদী ও খাল দখল করি। মুক্তিযুদ্ধকালে দেশের জন্য তারা বুকে গুলি খেয়েছে। আর আমরা শুধু নিজের চিন্তা করছি।’
মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি— আমরা শহরকে ভালোবাসবো। নিজের ঘরকে যেভাবে সুন্দর রাখি, এই শহরকেও একইভাবে ভালোবাসবো। আমরা যেনো যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। আমরা যেনো ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলি। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পার হই। জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করি। যেখানে আমরা পদ্মা সেতু তৈরি করতে পেরেছি। এই শহরকেও আমরা সুন্দর করতে পারবো। যত বাধাই আসুক না কেন, কোনও বাধাই আমরা মানবো না।’
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছে, যারা এদেশকে পঙ্গু করতে চেয়েছিল, রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী— সেই অপশক্তিই আবারও উঠে পড়ে লেগেছে। যারা ভাস্কর্য ভাঙছে, মিথ্যা ফতোয়া দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়র আতিকুল ইসলাম বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মুজিব কর্নার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে অন্যান্যের মধ্যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল, কলেজের অধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কা হালদার শিখা উপস্থিত ছিলেন।
বনানী বিদ্যা নিকেতন থেকে ফেরার পথে বনানী মাঠের কাছে ক্ষুদে ‘মুক্তিযোদ্ধা’দের দেখে গাড়ি থেকে নেমে তাদেরকে উৎসাহ দেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন আতিকুল ইসলাম।
বেলা ১২টায় তিনি ডিএনসিসির নগর ভবনে বিজয় দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, ‘‘পরবর্তী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে আমরা ‘পরম্পরা’ নামে বইয়ের গাড়ি চালু করেছি। এই গাড়িগুলো প্রতিটি ওয়ার্ডে যাচ্ছে। আমরা যেনো সেখান থেকে বই কিনে আমাদের সন্তানদের ও পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।’
মেয়র আরও বলেন, ‘‘আমরা আগামী ১ জানুয়ারির থেকে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপ উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। এর ফলে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে সব কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাকে। জনগণ তাদের অভিযোগ আমাদেরকে অ্যাপের মাধ্যমে জানাবেন। আমাদেরকে তার সমাধান দিতে হবে। এ জন্য ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’’
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অলোচনা অনুষ্ঠানে সংস্থার সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।








