রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী জিসান হাবিবের হত্যার ঘটনায় মো. সুমন নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো—মো. জাহাঙ্গীর বেপারি ওরফে হৃদয়, মো. রাকিব, মো. তানভীর রহমান নেহাল, মো. জিহাদ ও নুরুল ইসলাম রাব্বি।
দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মুনছুর আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করেন। একইসঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মো. সুমন ও মো. স্বপনকে আদালতে হাজির করেন। সুমন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর আসামি স্বপনকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর এ দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জিসান গত ২৮ নভেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের ইসলামপুরে তার মামার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে সে তার এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে আসে। বিমানবন্দর থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিসান তার অপর এক আত্মীয়ের সঙ্গে বাসে ধামরাই ফিরছিল। বাসটি উত্তরার আবদুল্লাপুরে পৌঁছালে এক ছিনতাইকারী জানালা দিয়ে জিসানের মুঠোফোন নিয়ে নেয়। এ সময় সে ও তার সঙ্গে থাকা আত্মীয় বাস থেকে নেমে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে জাপটে ধরে ফেলে। একপর্যায়ে ওই ছিনতাইকারী জিসানকে ছুরিকাঘাত করে মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান, ছুরিকাঘাতের পর জিসানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, জিসান হাবিব নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বিহেরগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল বাশারের ছেলে। স্থানীয় খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল সে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জিসান ছিল তৃতীয়।








