পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভাপতি জীশান মীর্জা বলেছেন, আমাদের সন্তানদের মনের দরজা খুলে দিতে আমরা কাজ করছি। পিতা-মাতার পেশা সম্পর্কে সন্তানদের উপলব্ধি কী ও তারা কীভাবে পরিবারকে মূল্যায়ন করে, তাদেরকে সেটা জানানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজারবাগে পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ পরিবারের ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী সন্তানদের জন্য ‘এসো শিখি ও মনের কথা বলি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাইবার স্পেসে শিশুদের ঝুঁকি এড়াতে করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয় অনুষ্ঠানে।
পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) পুলিশ পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও তাদের সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং মেধার উন্নয়নে গত তিন দশক ধরে কাজ করে আসছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুনাক বৃহস্পতিবার রাজারবাওগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ পরিবারের ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী সন্তানদের জন্য “এসো শিখি ও মনের কথা বলি” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে পুনাকের বিভিন্ন স্তরের সদস্যারা ছাড়াও পুলিশ পরিবারের ৫৯ জন সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুনাকের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা নাসিম আমিন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে পিতা-মাতার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ সন্তানের মানসিক বিকাশে পিতা-মাতার সচেতনতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শিশু-কিশোরদের মাঝে সাইবার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহ্ফুজা লিজা। শিশু-কিশোররা কীভাবে নিজেদের অজান্তে সাইবার স্পেস ঝুঁকিতে পড়ে, এসব ঝুঁকি এড়াতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বিধানে কী করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাইমা নিগার শিশু-কিশোরদের পরিবারে, স্কুলে এবং বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা ও সমস্যা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।








