রাজধানী দারুসসালাম থানা এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় অভিনেত্রী আয়েশা আক্তার আশার মৃত্যুর ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) আশার মা পারভীন আক্তার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। পরে তার আইনজীবী আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আনিসুর রহমান বলেন, ‘এ রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি উপস্থাপন করা হবে।’
রিট আবেদনে দুর্ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা নিরূপণে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আশার পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবেদনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট আট জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘অভিনেত্রী আশার মৃত্যুর ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক কারাগারে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে সেই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর দারুসসালাম টেকনিক্যাল মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় অভিনেত্রী আয়েশা আক্তারের (আশা) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৬ জানুয়ারি তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি সোমবার রাত দুইটার দিকে দারুসসালাম টেকনিক্যাল মোড়ে একটি ট্রাকের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আয়েশা। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পরদিন আশার বাবা আবু কালাম বাদী হয়ে মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদকে আসামি করে দারুসসালাম থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শামীম বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে দুই ট্রাকের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় সামনের ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আশা মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ছিটকে পড়ে যান। এরপর পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক তাকে চাপা দিলে মাথায় জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই আশা মারা যান। আশা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন।









