আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের (৫৩) মৃত্যু আইন অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরা।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাতে পৃথক শোকবার্তায় আইনজীবীরা এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের এই চলে যাওয়াটা সাংবাদিকতায়, বিশেষ করে আইন সাংবাদিকতায় বিরাট শূন্যতা তৈরি হলো। তার লেখা পড়ে মনেই হতো না যে তিনি আইনজীবী নন। আইন বিষয়ে তার এত স্বচ্ছ ধারণা ছিল যে তা বলার অবকাশ রাখে না। সাহসী সাংবাদিকতা তথা আইন নিয়ে লেখায় উনি পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।'
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘সাংবাদিকতায় অনন্য মেধা ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখা মিজানুর রহমান খানের মৃত্যু সাংবাদিকতা জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। সাবলীল ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার কারণে তিনি দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
আওয়ামী লীগের আইন উপ-কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বিশেষ করে আইন, আদালত ও বিচার বিভাগ নিয়ে তার লেখনীর শূন্যতা অনুভব করবে আইনজীবী সমাজ।’
দুদকের প্রধান আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে সাংবাদিকতা জগৎ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারালো। মিজানুর রহমান খান আইনের খুঁটিনাটি বিষয় অনুসন্ধান করতেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় বিশ্লেষণ করতেন। বিচার বিভাগ নিয়ে তথ্যবহুল কলাম লিখতেন। আমি মনে করি, আইনজীবী সমাজ, বিচার বিভাগ তার শূন্যতা অনুভব করবে। আমি গভীর শোকাহত।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমি মনে করি আইন ও সংবিধান নিয়ে মিজানুর রহমান খানের মতো পাণ্ডিত্য সাংবাদিক সমাজে দ্বিতীয় কেউ নেই। তিনি সংবিধান ও আইনকে সহজ ভাষায় লেখনীর মাধ্যমে জনগণের মাঝে তুলে ধরেছেন। তার মৃত্যুতে সত্যিই আইন ও বিচার বিভাগের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’
প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান (৫৩) ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মিজানুর রহমান খান গত ২৭ নভেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। সেখান থেকে গত ১০ ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ জানুয়ারি বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:









