আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের আপন দুই ভাতিজার ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে লন্ডনে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের সাবেক নেতা ও ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মামুনের বিরুদ্ধে। অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের দুই ভাতিজা অধ্যাপক ড. মো. আবুল মাসরুর ও প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, এই দুই ভাইয়ের ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটও দখলে রেখেছেন মামুন।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রিফাৎ নিলয় জোয়ার্দার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ার্দার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক ড. মো. আবুল মাসরুর ও তার ভাই প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক পৈত্রিক সূত্রে ধানমন্ডির বাড়িটির (বাড়ি নং ২৯, সড়ক নং ১৪, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯) মালিক। তারা দুই জনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। এর মধ্যে ড. মো. আবুল মাসরুর বুয়েটের প্রফেসর ছিলেন। বাংলা মোটরে ৬ দশমিক ৭৫ কাঠা জমিতে ভবন রয়েছে প্রবাসী ওই দুই ভাইরের। ভবনের নাম ‘নূরজাহান টাওয়ার’। ডেভেলপারের মাধ্যমে করা এই বিল্ডিংয়ের যে অংশ প্রবাসী দুই ভাই পেয়েছেন তার সবই বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মামুন। এই দুটি বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মামুনকে। আর এই দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগে শর্ত ভঙ্গ করে প্রবাসী দুই ভাইকে সর্বস্বান্ত করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ধানমন্ডির বাড়িটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে ডেভেলপ করা হয়। এক্ষেত্রে জমির মালিক হিসেবে পাওয়া ১০৪, ২০২, ২০৩, ২০৬, ৩০৩ ও ৩০৬ নম্বর ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান মামুন। এর মধ্যে ২০২ নম্বর ফ্ল্যাট মালিকরা ব্যবহার করেন। আর ৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাটে মামুনকে থাকার অনুমতি দেন তারা। এছাড়া দুই ভাইয়ের অনুমতি ছাড়াই তিনটি ফ্ল্যাট দখলে রাখেন তিনি। এরমধ্যে ৩০৩ নম্বর ফ্ল্যাট অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন মামুন। এই ফ্ল্যাটে বিএনপির এক শ্রেণির নেতাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে। সেখানে প্রায়ই বিএনপি নেতাদের গোপন বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনে টাকা পাচার রোধ করতে অবিলম্বে মশিউর রহমান মামুনকে গ্রেফতার করার দাবি করা হয়।









