পরিবেশ দূষণ রোধে উন্নয়ন প্রকল্পে বাজেট থাকে। সেই বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে দূষণ বাড়ে। এ কারণে দূষণ রোধে উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বলেছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘ইপি টকস অন এয়ারপলুশন ইন ঢাকা: প্রব্লেম অ্যান্ড মিটিগেশন মেজার’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এমটুকে’র সহায়তায় অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমেরিকার একটি সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণের কারণে ২০১৯ সালে বিশ্বে এক লাখ ৭৩ হাজার লোক মারা গেছে। অথচ সাইলেন্স কিলার পরিবেশ দূষণ নিয়ে আমরা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না। এ বিষয়ে করোনার চেয়ে আরও ১০ থেকে ২০ গুণ মনোযোগ দেওয়া দরকার ‘
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতরের জনবলের ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক চাপও থাকে। তারমধ্যেও তারা কাজ করে যাচ্ছে। একটি পলিসি সেল থাকলে সবকিছু তার মধ্যে থাকতে পারবে। আমি মনে করি, উন্নয়ন এবং পরিবেশ একসঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব।’
বিদ্যুৎ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক ডিজি ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘বাতাসে কী আছে যদি দেখতে পেতাম, তাহলে আমরা হয়তো নাক বন্ধ করে ফেলতাম। নদী-নালা দূষণ হলে ওই নির্দিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলতে পারি, কিন্তু বাতাস এড়িয়ে চলা সম্ভব না। সবচেয়ে বেশি দূষণ হচ্ছে মাটি থেকে ৫-৭ ফুট উচ্চতায়। এই লেভেলেই আমাদের নাকের অবস্থান।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তা কেটে তার বসাচ্ছি। ফিনিসিং করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কিন্তু তারা যথা সময়ে সিলকোর্ট করছে না। এতে যানবাহনের চাকায় উঠে বাতাস দূষিত করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি আদেশ ছিল— নির্মাণ কাজে যাতে দূষণ না হয়, তার জন্য পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। সেটি মনিটরিং করা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘গাড়ি চলার সময় রাস্তা ও চাকার ঘর্ষণে সালফার, বিটুমিনের কনা এবং কার্বন ছড়িয়ে পড়ছে। রাস্তার উপরিভাগ ও টায়ারের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার আব্দুস সালেক সুফী বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ না হলে ঢাকার দূষণ ঠেকানো যাবে না। পরিবেশ দূষণ নিয়ে মিডিয়াকে আরও সোচ্চার হতে হবে। জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। একমাত্র পরিবেশ অধিদফতর ও সরকারের একার পক্ষে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব না।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি সিরিয়াস এবং সিনসিয়ারিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি কিন্তু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। সড়কের নির্মাণ কাজের কারণে বেশি দূষণ হয়। দুর্নীতির কারণে এটি হয়, নিয়ন্ত্রণ করলে দূষণ অনেক কমানো সম্ভব।’
ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এসএম সালেহউদ্দিন বলেন, ‘ম্যাক্সিমাম গাড়িতে ফিটনেস নেই। আমরা সঠিক সময়ে সার্ভিসিং না করা, ম্যানুয়াল মেনে না চলায় কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। দূষণ থেকে বাঁচতে হলে, মেগা প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মাহমুদা হাসান বলেন,বায়ু দূষণে সব বয়সের লোকজনই আক্রান্ত হয়। কার্বন, সালফার ডাই অক্সাইড, আরও কিছু উপাদান স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পাবলিক হেলথকে ফোকাল পয়েন্টে আনলে সুস্থ মা পাবো, সুস্থ শিশু ও সুস্থ প্রজন্ম পাওয়া যাবে। তা না-হলে কোথাও সুস্থ প্রজন্ম পাবো না।









