মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট চায় না বায়রার একাংশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:০১আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:০১

মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের সব দেশের শ্রমবাজার থেকে সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সিন্ডিকেট পদ্ধতি বাতিল করে রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট, বায়রা। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে ড. মোহাম্মদ ফারুখ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘২০১৬, ১৭ ও ১৮ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমিক রফতানির চুক্তি ও রফতানি প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ২০১৬ সালে সম্পাদিত জিটুজি প্লাস চুক্তিতে মালয়েশিয়ান সরকার ঘোষণা করে যে, তারা বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৩ লাখ করে ৫ বছরে ১৫ লাখ শ্রমিক আমদানি করবে। অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয় জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার টাকা। রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াতে সংযুক্ত করা হয় অনলাইন সিস্টেম, শ্রমিক রফতানির দায়িত্ব দেওয়া হয় ১২শ’ এজেন্সির পরিবর্তে ১০টি এজেন্সিকে। এটা ছিল জনশক্তি রফতানির ইতিহাসে এক জঘন্যতম ষড়যন্ত্র।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশবিরোধী চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে দুই দেশের সরকারকে বোঝাতে স্বক্ষম হয় যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি অচল। তাই অনলাইন পদ্ধতি চালু করলে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমে যাবে, দ্রুত গতিতে শ্রমিক প্রেরণ করা যাবে, অধিক সংখ্যক শ্রমিক রফতানি করা যাবে এবং শ্রমিক মালিকের কল্যাণ নিশ্চিত করা যাবে। তারা আরও বোঝাতে স্বক্ষম হয় যে, সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে শ্রমিক রফতানির সুযোগ দিলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না, এজেন্সিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলে অভিবাসন ব্যয় পূর্বের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, দুর্নীতি বেড়ে যাবে। তাই কোনও অবস্থায় সব এজেন্সিকে শ্রমিক রফতানি করতে দেওয়া যাবে না। ১০ এজেন্সি নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিক রফতানি হলেই শ্রমিকদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা যাবে, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, অল্প সময়ে অধিক সংখ্যক শ্রমিক রফতানি করা যাবে। এ রকম নানা ধরনের প্রাপাগান্ডা, অনৈতিক লেনদেন, পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে ১০ জন নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেট পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কিছু সদস্য জীবন জীবিকার তাড়নায় বাধ্য হয়ে তাদের সাবএজেন্ট হিসেবে শ্রমিক পাঠালেও নানা রকম সমস্যায় পড়ে।’

মোহাম্মদ ফারুখ বলেন, ‘বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা তিল তিল করে ১৯৮৪ সাল থেকে নিজেদের শ্রম, মেধা, মূল্যবান সময় ও আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে গড়ে তোলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের এই বিশাল বাজার। এক সময় এই বাজারে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা দাড়ায় ১২ লক্ষের অধিক। এই সব শ্রমিক গিয়েছে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেপির মাধ্যমে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এজেন্সিগুলো কোনোপ্রকার বাধা ছাড়া মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির সুযোগ পেয়েছে। ২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তার এক মন্তব্যের কারণে বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। বাজারটি যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে ৬০ হাজার শ্রমিকের কলিং ভিসা এবং এক লাখের বেশি শ্রমিক রফতানির অনুমোদন ছিল। পরে এই কলিং ভিসা ও অনুমোদনের বিপরীতে একটি শ্রমিকও যেতে পারেনি। এর ফলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের ক্ষতি হয় ৫০০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন বাজারটি বন্ধ থাকার পর সরকার অনেক চেষ্টা তদবির করে ২০১২ সালে জিটুজি পদ্ধতিতে বাজারটিতে পুনরায় শ্রমিক রফতানি চালু হয়। জিটুজি পদ্ধতিটা ছিল কিছু এনজিওর যড়যন্ত্রের ফল। এই চুক্তির মাধ্যমে ১৫ লাখ শ্রমিক রফতানির কথা থাকলেও ৪ বছরে শ্রমিক রফতানি হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কোনও সিন্ডিকেট প্রথা দেখতে চাই না; যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের সব দেশের শ্রমবাজার থেকে সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সিন্ডিকেট পদ্ধতি বাতিল করে রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সব বাজার উন্মুক্ত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) নির্বাহী সদস্য রেদওয়ান খান বোরহান, মিনার ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে. এইচ গাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

/এসও/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম