গত বছরের ১৪ আগস্ট হাতিরঝিলে স্কুলছাত্রী বিথিকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে হত্যা করা হয় বলে তার মা অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ, হত্যাকাণ্ড হলেও পুলিশ বারবার বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে মেয়ে হত্যার বিচারে সংবাদ সম্মেলন করেন মা রওশন আরা।
তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে ধলপুর কিন্ডার গার্টেন হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়তো। গত বছরের ১৪ আগস্ট বিকেলে আমার মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যায়। পরে তাকে অনেকবার ফোন করলেও রিসিভ করেনি। একপর্যায়ে রাসেল নামের এক ছেলে ফোন রিসিভ করে জানায় বিথি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। তখন আমরা দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আমার মেয়ে। সেখানে তার বন্ধুরা উপস্থিত ছিল। দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে রাসেল জানায়, মুগদা থেকে রিকশায় আসার পথে সিএনজির ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে রেফার করেন। ১৬ আগস্ট রাত ১টায় সেখানে আমার মেয়ে মারা যায়।’
দুর্ঘটনার বিষয়টি সন্দেহ হলে বিথির বন্ধু চৈতিকে জিজ্ঞাসা করলে তারা রওশন আরাকে জানায়, তারা মোটরসাইকেলে হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিল। নাইম নামের এক ছেলের মোটরসাইকেলে উঠেছিল বিথি। একপর্যায়ে বাইক থেকে তাকে ফেলে দেয় নাইম। এতে গুরুতর আহত হয় বিথি। ঘটনাস্থল থেকে বিথিকে চৈতি ও রাসেল ঢাকা মেডিক্যালে নিলেও নাইম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে এজাহারে। কিন্তু এটা হত্যাকাণ্ড। বারবার পুলিশকে বলা হলেও তারা নিজেদের ইচ্ছায় মামলার এজাহার তৈরি করেছে। ওই তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পরে ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছি।
বিথির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।









