সড়কে শৃঙ্খলা আনতে এবং দুর্ঘটনা রোধে ২০১৯ সালে ১১১টি সুপারিশ দেয় জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। সেই সুপারিশের অন্যতম বিষয় ছিল দক্ষ চালক তৈরি এবং তাদের ডোপ টেস্ট। দুই বছরেও এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বিলম্বে হলেও চালকদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। ডোপ টেস্টের সনদ জমা না দিলে নতুন লাইসেন্স এবং লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। ডোপ টেস্টের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে এরইমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিআরটিএ।
দ্রুতই এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা। শুরুতে বিআরটিএ নিজেদের খরচেই ডোপ টেস্টের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কিন্তু লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। চালকদের নতুন লাইসেন্স পাওয়া ও পুরনো লাইসেন্স নবায়নের আবেদনের সঙ্গে মাদকাসক্তি পরীক্ষার সনদও জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে কিট দিয়ে লালা পরীক্ষার মাধ্যমেও মাদকসেবী চালক শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ডোপ টেস্টের ব্যয় ভার নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। নবায়নের ক্ষেত্রে মালিকরা কোনও খরচ বহন করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে চালকদের মধ্যে। এ বিষয়টির দ্রুত সুরাহা চান চালকরা।
বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (অ্যানফোর্সমেন্ট), মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পেশাদার চালকদের প্রাথমিকভাবে বিআরটিএ নিজ খরচে ডোপ টেস্ট করাবে। তবে নতুন লাইসেন্স পেতে কিংবা নবায়ন করতে কোনও বরাদ্দ নেই। চালকদের নিজেদেরই তা বহন করতে হবে। বিভিন্ন বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্দেহভাজন চালকদের এই ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। প্রথমদিকে সীমিত আকারে পরিচালিত হবে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম। টার্মিনালসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজনদের টেস্ট করানো হবে। এ কার্যক্রম শুরু হবে রাজধানীর প্রধান তিনটি বাস টার্মিনাল মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলীতে। প্রাথমিকভাবে এক বছর খরচ বিআরটিএ বহন করবে।’
চালকদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টে প্রক্রিয়া কিংবা খরচ বহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে অথবা নবায়নের জন্য আবেদন করবে তাদের ডোপ টেস্ট-এর আওতায় এনে ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হালকা, ভারী পেশাদার কিংবা অপেশাদার সবার জন্যই এই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত হলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ল্যাবে ডোপ টেস্ট করানো হবে সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। ডোপ টেস্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কী প্রক্রিয়ায় হবে, কোথায় কোথায় হবে, সে বিষয়গুলো সুপারিশমালায় তুলে ধরা হয়েছে। লাইসেন্স প্রত্যাশী সবাইকে এই ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছাদেকুর রহমান হিরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে শুধু মদপানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল চালকরা। কেউ মদপান করলে তারা ধরা পড়তো। শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে শাস্তি পেতো চালকরা। কিন্তু বর্তমানে ইয়াবা নামক মাদকের কারণে সরাসরি চালকদের ধরা সম্ভব হয় না। এজন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো খুবই আগ্রহী অতি দ্রুত ডোপ টেস্টের কার্যক্রম শুরু হোক। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’
বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (অ্যানফোর্সমেন্ট), মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পেশাদার চালকদের প্রাথমিকভাবে বিআরটিএ নিজ খরচে ডোপ টেস্ট করাবে। তবে নতুন লাইসেন্স পেতে কিংবা নবায়ন করতে কোনও বরাদ্দ নেই। চালকদের নিজেদেরই তা বহন করতে হবে। বিভিন্ন বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্দেহভাজন চালকদের এই ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। প্রথমদিকে সীমিত আকারে পরিচালিত হবে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম। টার্মিনালসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজনদের টেস্ট করানো হবে। এ কার্যক্রম শুরু হবে রাজধানীর প্রধান তিনটি বাস টার্মিনাল মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলীতে। প্রাথমিকভাবে এক বছর খরচ বিআরটিএ বহন করবে।’
চালকদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টে প্রক্রিয়া কিংবা খরচ বহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে অথবা নবায়নের জন্য আবেদন করবে তাদের ডোপ টেস্ট-এর আওতায় এনে ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হালকা, ভারী পেশাদার কিংবা অপেশাদার সবার জন্যই এই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত হলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ল্যাবে ডোপ টেস্ট করানো হবে সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। ডোপ টেস্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কী প্রক্রিয়ায় হবে, কোথায় কোথায় হবে, সে বিষয়গুলো সুপারিশমালায় তুলে ধরা হয়েছে। লাইসেন্স প্রত্যাশী সবাইকে এই ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছাদেকুর রহমান হিরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে শুধু মদপানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল চালকরা। কেউ মদপান করলে তারা ধরা পড়তো। শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে শাস্তি পেতো চালকরা। কিন্তু বর্তমানে ইয়াবা নামক মাদকের কারণে সরাসরি চালকদের ধরা সম্ভব হয় না। এজন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো খুবই আগ্রহী অতি দ্রুত ডোপ টেস্টের কার্যক্রম শুরু হোক। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি এক বৈঠকে বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে ডোপ টেস্টের ব্যয় মালিকদের বহন করার বিষয়ে উপস্থাপন করা হলে মালিক প্রতিনিধিরা তা প্রত্যাখ্যান করে। লাইসেন্স নবায়ন করার সময় ডোপ টেস্টের জন্য খরচের কোনও অর্থ মালিকরা বহন করবে না। চালকরা যখন লাইসেন্স নবায়ন করতে যাবে তখন যদি যতটুকু কম মূল্যে পারা সম্ভব হয় কিংবা সরকার যদি ভর্তুকি দিয়ে ডোপ টেস্টের জন্য খরচ নির্ধারণ করে তাহলে চালকদের জন্য ভালো হবে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কোনও নির্দিষ্ট কারণে ঘটে না। তবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকদের মাদকাসক্তির বিষয় একটি অন্যতম কারণ। একদিকে মাদকাসক্ত অন্যদিকে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনা, তেমনি বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।
বিভিন্ন বাস টার্মিনালে সরকারিভাবে ডোপ টেস্ট করানোর ব্যবস্থা রাখা উচিত। মালিকদের দায়িত্ব তার চালক মাদকাসক্ত কিনা এ বিষয়ে খোঁজ রাখা। সরকার এবং টার্মিনালের মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহায়তায় টার্মিনালে বুথ স্থাপন করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া, চালকদের ডোপ টেস্টের অর্থ সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দেওয়া দরকার। এতে সবার মধ্যেই চালকদের ওপর একটি নজরদারির বিষয় চলে আসবে। এছাড়া পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের খরচ কম করা উচিত।’
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিআরটিএ, শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গত নভেম্বরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডোপ টেস্ট চালু হলে সরকারিভাবে এর ব্যয় বহনের জন্য বিআরটিএ-কে সুপারিশ করেছে মালিকপক্ষ। চালকদের ডোপ টেস্টের জন্য মালিকপক্ষ কোনও অর্থ ব্যয় করবে না। শ্রমিক ইউনিয়ন ডোপ টেস্টের দায় বহন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে বিআরটিএ’র ফান্ড থেকে চালকদের জন্য ব্যয় বহনের সুপারিশ করেছে মালিকপক্ষ।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কোনও নির্দিষ্ট কারণে ঘটে না। তবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকদের মাদকাসক্তির বিষয় একটি অন্যতম কারণ। একদিকে মাদকাসক্ত অন্যদিকে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনা, তেমনি বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।
বিভিন্ন বাস টার্মিনালে সরকারিভাবে ডোপ টেস্ট করানোর ব্যবস্থা রাখা উচিত। মালিকদের দায়িত্ব তার চালক মাদকাসক্ত কিনা এ বিষয়ে খোঁজ রাখা। সরকার এবং টার্মিনালের মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহায়তায় টার্মিনালে বুথ স্থাপন করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া, চালকদের ডোপ টেস্টের অর্থ সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দেওয়া দরকার। এতে সবার মধ্যেই চালকদের ওপর একটি নজরদারির বিষয় চলে আসবে। এছাড়া পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের খরচ কম করা উচিত।’
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিআরটিএ, শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গত নভেম্বরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডোপ টেস্ট চালু হলে সরকারিভাবে এর ব্যয় বহনের জন্য বিআরটিএ-কে সুপারিশ করেছে মালিকপক্ষ। চালকদের ডোপ টেস্টের জন্য মালিকপক্ষ কোনও অর্থ ব্যয় করবে না। শ্রমিক ইউনিয়ন ডোপ টেস্টের দায় বহন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে বিআরটিএ’র ফান্ড থেকে চালকদের জন্য ব্যয় বহনের সুপারিশ করেছে মালিকপক্ষ।’









