আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুই জন করে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। তবে এ নির্দেশনা মানেনি কেউ। কোনোপ্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে শতাধিক যুবক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারের প্রবেশপথে হাজির হন। হঠাৎ তাদের কয়েকজন শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। এতে করে একপ্রকার হট্টগোল দেখা দেয়। কয়েকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। হট্টগোলকারীদের সামাল দিতে হিমশিম খান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বাঁশি বাজিয়ে হট্টগোলকারীদের থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারা ধাক্কাধাক্কি করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি ব্যানার ছিঁড়ে যেতে দেখা যায়।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও টাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্রলীগের ব্যানারে এই হট্টগোল করা হলেও এর বেশ আগেই ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নেতৃত্বে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ছাত্রলীগের ব্যানারে হট্টগোল দেখে আতঙ্কে বাঁশের তৈরি নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে দৌড়াদৌড়ি শুরু করা রাফিয়া নামের একজন বলেন, ‘ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি থেকে আমরা কয়েকজন এসেছি। হঠাৎ ছাত্রলীগের ব্যানারে যেভাবে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছে, তাতে কিছুটা ভয় পেয়েছি। দুর্ঘটনাক্রমে পড়ে গেলে খুব খারাপ পরিস্থিতি হতো। তাই নিরাপত্তা বেষ্টনি এভাবে ডিঙিয়ে আসলাম।’
ভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করা রাশেদ নামের একজন বলেন, ‘যেভাবে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছে, যেকোনও মুহূর্তে গন্ডগোল বেঁধে যেতে পারে। কে কখন কার ওপরে চড়া হয় বলা মুশকিল। তাই দৌড় দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে এলাম।’









