রাজধানীর আদাবরে মানসিক হাসপাতালে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন মারধরে নিহতের অভিযোগে করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পেছালো। পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় জন্য আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১০ মার্চ) মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদনের জন্য পরবর্তী এ দিন ধার্য করেন।
এ ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর নিহতের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. আনিসুল করিমকে চিকিৎসার জন্য গত ৯ নভেম্বর দুপুরে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আরিফ মাহমুদ জয় ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আনিসুলকে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যায়। তখন তার বোন কথা বলতে চাইলে আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও রেদোয়ান সাব্বির বাধা দিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেয়। এরপর এজাহারে উল্লিখিতসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মো. আনিসুল করিমকে চিকিৎসার নামে দোতলার একটি অবজারভেশন রুমে (বিশেষভাবে তৈরি কক্ষ) নিয়ে যায়। আসামিরা এএসপি আনিসুলকে রুমের ফ্লোরে জোর করে উপুড় করে শুইয়ে তিন-চার জন হাঁটু দিয়ে চেপে পিঠের উপর বসে। এ সময় কয়েকজন তাকে পিঠমোড়া করে ওড়না দিয়ে দুই হাত বাঁধে। কয়েকজন আসামি কনুই দিয়ে আনিসুলের ঘাড়ের পেছনে ও মাথায় আঘাত করে। একজন মাথার উপরে চেপে বসে এবং আসামিরা সবাই মিলে তার পিঠ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারে।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে আনিসুল নিস্তেজ হয়ে পড়েন, যা হাসপাতালের সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর আসামি আরিফ মাহমুদ জয় নিচে এসে পরিবারের সদস্যদের ইশারায় উপরে যাওয়ার জন্য ডাক দেয। এরপর তার বাবা, ভাই ও বোন অবজারভেশন রুমে গিয়ে আনিসুলকে ফ্লোরে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান। অতঃপর তাকে জরুরি ভিত্তিতে একটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে এএসপি আনিসুলকে মৃত ঘোষণা করেন।









