এমন কোনও খাত নেই, করোনায় যার ক্ষতি হয়নি। বেশি ভুগেছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো। প্রায় এক বছরে মজুরি কমেছে দেশের ৬২ শতাংশ শ্রমিকের। কাজ হারিয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। বুধবার (১০ মার্চ) ‘কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের ওপর মহামারির প্রভাব: সানেমের জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য জানানো হয়। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা।
ওয়েবিনার পরিচালনা করেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।
ড. বিদিশা বলেন, ২০২১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জরিপটি পরিচালনা করে সানেম। ফোনকলের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে ২৭৩ জন প্রবাসী শ্রমিক, ২৩০ জন স্থানান্তরিত কর্মী এবং স্থানান্তরিত নন এমন ২ হাজার ৮৪৫ জন শ্রমিকের উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ কর্মী জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের বেতন ২০১৯ সালের তুলনায় ৭.৯ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে কাজ হারিয়েছে ১.৭ শতাংশ। ২০২০ সালের মার্চ-ডিসেম্বর পর্যন্ত সাময়িকভাবে কাজ হারিয়েছিল ৫.৪ শতাংশ।
১৬ শতাংশ নারী শ্রমিক জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ-ডিসেম্বরে তারা কাজ হারিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাজে যোগ দিতে পারেনি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৭ শতাংশ।
কৃষিখাতের ৬৮ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ-ডিসেম্বর সময়কালে তাদের আয় কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে এ হার ৬৯ শতাংশ, অন্যান্য উৎপাদন খাতে ৫৮ শতাংশ, নির্মাণ খাতে ৭৪ শতাংশ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় ৫৭ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ৮০ শতাংশ।
জরিপে উল্লেখ করা হয়, ২০ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক ২০২০ সালের মার্চ-ডিসেম্বর সময়কালের মধ্যে কাজ হারিয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৫ শতাংশ বিভিন্ন কারণে দেশে ফিরে এসেছে।
ড. সেলিম রায়হান বলেন, কোভিডের আগেও জীবিকার জন্য অভ্যন্তরীণ অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অভিবাসন কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব প্রকাশ করছে। পুঁজি ও শ্রমবাজার নিয়ে দুর্বল নীতিও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এটা ইতিবাচক যে লোকজন ধীরে ধীরে কাজে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু যদি নতুন বিনিয়োগ না হয়, তবে শ্রমশক্তিতে যোগ দেওয়া নতুন মানুষদের কীভাবে জায়গা দেবো? আগে থেকেই তো বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি আমরা।
ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেকটর টুমো পওতিয়ানেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।









