ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কথোপকথন অন্যায়ভাবে রেকর্ড করেন আসামি আলী আহমদ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে এই রেকর্ড আপলোড করে সামাজিকভাবে কামরুল ইসলামকে হেয় ও মানসম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি কামরাঙ্গীরচর থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রে এই কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগপত্রে চার জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- আলী আহমেদ, ড. কনক সরওয়ার সৈয়দ মো. সরওয়ার ই আলম, জামাল দেওয়ান ও আলম বাদশা।
জুনায়েদ হোসেন ওরফে জুবায়ের নামে অপর এক আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ ওই আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আছেন। সেই সুবাদে তাকে এলাকার বিভিন্ন ঘটনা বা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সালিশ দরবার করতে হয়। তিনি বিএলএফ এর ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি বাসা থেকে বের না হয়ে মোবাইল ফোনে বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষের কথা শুনতেন এবং বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা দিতেন। এই মামলার ঘটনার কিছুদিন আগে ‘ঢাকা টোটাল ক্যাবল নেটওয়ার্ক’ এর এমডি ইউসুফ তার এফ ফিড হোল্ডার আলি আহমদের সঙ্গে দেনা-পাওনার বিষয়ে বাদীর কাছে একটি অভিযোগ নিয়ে আসে। অভিযোগে ডিটিসিএন কেবল নেটওয়ার্ক এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. জামাল উদ্দিন ইউসুফ জানান, তার কাছ থেকে লাইন নিয়ে আসামি আলী আহমেদ ফিডার লাইন হিসেবে ৫০০ এর ওপরে লাইন পরিচালনা করতো। প্রতি মাসের ১৩ হাজার টাকা করে ৯ মাসের ডিস লাইনের চার্জ হিসাবে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় মৌখিকভাবে টাকা পরিশোধের কথা বললেও আলি আহমেদ বকেয়া টাকা না দেওয়ায় বিষয়টি ন্যায়বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য এমপি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কাছে জানান।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে আলী আহমদের ফোন নম্বরে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুই বার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন এবং তার বক্তব্য জানতে চান। মামলার আসামি আলী আহমদ ও তার সহযোগী জামাল দেওয়ান পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কামরুল ইসলামের সঙ্গে তার কথোপকথন অন্যায়ভাবে রেকর্ড করেন। রেকর্ডকৃত অডিও ক্লিপটি চাঁদাবাজি বলে রূপ দেওয়ার জন্য এবং সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য পূর্বশত্রুতার জের হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড করার পরিকল্পনা করতে থাকেন আসামি আলী আহমেদ ও তার সহযোগী জামাল দেওয়ান। এরপর এ অডিও ক্লিপটি জামাল দেওয়ান তার রাজনৈতিক অফিসে বসে পুনরায় শোনার জন্য আসামি আলম বাদশাকে ডাকেন।’
‘আলম বাদশা ওই রেকর্ডটি আলী আহমেদ এর মোবাইল থেকে জামাল দেওয়ানকে শোনান। এই সময় জামাল দেওয়ান পরিকল্পিতভাবে অডিও রেকর্ডটি আলম বাদশার মোবাইলে রেকর্ড করার জন্য বলেন। আলম বাদশা ও জোনায়েদ হোসেন ওরফে জুবায়ের ওই অডিওটি কপি করে তাদের মোবাইলে নেন। পরবর্তীতে এই অডিও ক্লিপটি আসামি আলী আহমেদ, ড. কনক সরোয়ার, জামাল দেওয়ান ও আলম বাদশাহ পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে আপলোড করে। যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়।’
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি ড. কনক সরওয়ার ওরফে সৈয়দ মোহাম্মদ সরওয়ার আলম ওই ভিডিওতে কামরুল ইসলামকে নিয়ে মিথ্যা, আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করে। তার মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা সম্পর্কে কটাক্ষ করে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আসামিরা। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। পরবর্তীতে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে সামাজিকভাবে চরম হেয় করা হয় এবং সামাজিকভাবে তার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়।’
তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘মামলাটি তদন্তকালে আসামি আলম বাদশা ও জামাল দেওয়ানের কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামি আলী আহমেদের সঙ্গে এমপি কামরুল ইসলামের কথোপকথন পরিকল্পিতভাবে রেকর্ড করা হয়। কথোপকথনের রেকর্ডটি জামাল দেওয়ান ও আলম বাদশা পুনরায় শোনেন। আলী আহমেদের বাটন মোবাইল থেকে মেমরি কার্ড খুলে আলম বাদশা তার মোবাইলে কপি করে নেন। পরবর্তীতে আলম বাদশার মোবাইল থেকে জামাল দেওয়ানের মোবাইলে পাঠান। আসামি আলী আহমেদ, ড. কনক সরওয়ার, জামাল দেওয়ান ও আলম বাদশা পরিকল্পিতভাবে ওই অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড করে। যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।’
আরও পড়ুন-









