বাসা থেকে রাস্তায় বের হলেও অনেকেই মাস্ক পরছেন না। মাস্ক ব্যবহার না করার নানা অজুহাত দিচ্ছেন নগরবাসী। সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দেখা গেছে, মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি তাদের অজানা নয়, কিন্তু নানা কারণে মাস্ক পরছেন না তারা। কেউ বলছেন মাস্ক পড়লে গরম লাগে, আবার কেউ বলছেন মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এছাড়াও রয়েছে নানা যুক্তি। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও মাস্ক ব্যবহারে এখনও অনীহা রয়েছে অনেকের। আর এ কারণেই মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে নানা কর্মসূচি নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জনসাধারণকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা গেছে তাদের।
প্রসঙ্গত, মার্চের শুরুতেই করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে জনগণকে সচেতন এবং মাস্ক ব্যবহারের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সারা দেশে গত ২১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম। গত ১৮ মার্চ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।
মঙ্গলবার দুপুরে উদ্ভুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানা। এ সময় জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের (মিরপুর জোন) এসি মঈনুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘চলমান কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় জনগণ অনেকটাই সচেতন হচ্ছে। তবে যারা এখনও মাস্ক ব্যবহারের উদাসীন, তাদের সচেতন থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিজে সচেতন থাকলে পরিবার সুরক্ষিত থাকবে।’
মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীকে সচেতন করতে আমাদের এই উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করার জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহারের কোনও বিকল্প নেই। মাস্ক ব্যবহার করলে অনেকাংশেই করোনা ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আইন প্রয়োগ নয়, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবো আমরা।’
মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা কার্যক্রম বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানে আলম মুন্সি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের প্রতিটি সদস্য করোনার সংক্রমণের শুরু থেকেই জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এখনও পুলিশ সদস্যরা করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠে রয়েছেন। নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার জাপান গার্ডেন সিটির সামনে মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালায় আদাবর থানার পুলিশ। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করা গেলেই করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে জানান তারা।









