জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ শীর্ষক খসড়া প্রবিধান সর্বসাধারণের মতামতের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে (www.bfsa.gov.bd) উন্মুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া প্রবিধানমালায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তেল, চর্বি এবং খাদ্য দ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশের নিচে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকার। প্রবিধানটি সকলের মতামত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২২ মার্চ) রাজধানীর ‘বিজয় ৭১ অডিটরিয়ামে’ এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এর নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য, সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খসড়া প্রবিধানমালাটি উপস্থাপন করেন কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ।
এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে পারবো।’
টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ও বিএফএসএ সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্য দ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আমরা এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে খসড়া প্রবিধানমালাটি প্রণয়ন করেছি।’
উল্লেখ্য, ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য একটি ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও, যা বাংলাদেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামেই সুপরিচিত। সাধারণত বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাতকৃত ও ভাজা পোড়া স্ন্যাকস এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়কসংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে পিএইচও বা ডালডা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ উচ্চহারে হৃদরোগ, হৃদরোগজনিত মৃত্যু, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া) এবং স্বল্প স্মৃতিহানি (কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট) জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ২০২০ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই খসড়া প্রবিধানমালাটি বাস্তবায়ন শুরু হলে নিরাপদ খাদ্যে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।









