করোনায় এই করা যাবে না, সেই করা যাবে না নির্দেশনাসহ সংবাদ সম্মেলন করে যারা বিভিন্ন সতর্কবার্তা জারি করছেন তারাই মানছেন না কোনও নিয়ম। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যখন জনগনকে নানা নিয়মে চলাটাই করোনা মোকাবিলার একমাত্র উপায় বলে সতর্ক করা হচ্ছে তখন তারাই কোন তোয়াক্কা না করে, অংশগ্রহণকারীদের আগাম করোনা টেস্ট না করিয়ে অডিটোরিয়ামে জমায়েতের ব্যবস্থা করেছেন।
করোনার এই পরিস্থিতির মধ্যে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শক, পরীক্ষক ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পাওয়া চিকিৎসকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর। তিন শতাধিক চিকিৎসক নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে সকাল শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। আরতারপরই নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হলো। যারা অংশ নিচ্ছেন তারা নানা শঙ্কায় মুখ না খুললেও এখান থেকে সংক্রমণের শিকার হতে হয় কিনা সেই আতঙ্কে আছেন।
ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘দেশে করোনার যখন এমন উর্ধগতি তখন এমন এভাবে সবাইকে একসঙ্গে এনে এরকম জনসমাগম না করলেও পারত।’
কারোর টেসিট না করিয়ে এধরনের সনাগম কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমিতো জানি না কার কী অবস্থা। এখানে অনেকে করোনা সংক্রমিত থাকতে পারেন, তাদের মাধ্যমে নতুন করে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন।’
‘ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান মানে শুধুই নির্দেশনা, মেইলে কি দিয়ে দেওয়া যায় না এসব নির্দেশনা? অনুষ্ঠান থেকে আমরা পজিটিভ হওয়া মানে পরবর্তীকালে আমরা যেসব রোগী দেখবো, তারাও পজিটিভ হয়ে যেতে পারেন। করোনা রোগী দেখতে গিয়ে পজিটিভ হলে তো সমস্যা নেই, এভাবে অবহেলার কারণে পজিটিভ হলে তো সব দিক দিয়েই ক্ষতি।’
এমন পরিস্থিতিতে এভাবে ওরিয়েন্টেশন জরুরি ছিল কিনা প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েতুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটা কী ফিজিক্যালি করেছে নাকি, স্বাস্থ্যবিধি মানে নাই তারা? আমরাতো সবসময়ই বলেছি ভার্চুয়ালি করার জন্য তাহলে এটা কারা করলো প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন তাহলে দেখতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে এমনটা ঘটেছে আমার নলেজে নাই, কে ডাকছে, কোন পরিস্থিতে ডাকছে- আমাদের নলেজে নাই।
উল্লেখ্য, দেশে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা দেয় সরকার।
নির্দেশনার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছে, সব ধরনের জনসমাগম (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) সীমিত করতে হবে। উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হলো। বিয়ে/জন্মদিনসহ যেকোনও সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।









