‘আমার মেয়ে শাহিদা মরে গেছে। রানা প্লাজায় কারখানায় কাজ করতো। আমি সেদিন কাজে গিছিলাম। সেখানে শুনি রানা প্লাজা ভাঙা পড়ছে। আমি ১৭ রাত ১৮ দিন মেয়েকে খুঁজছি। পাই নাই। ১৮তম দিন বেলা ১১টায় পাইছি। তারে সেদিন কাজে যাইতে না করছিলাম, কিন্তু ফোন কইরা কাজে নিছিল। সরকারের আর কী দোষ, রানার বিচার হইলো না এটাই দোষ।’
কথাগুলো বলছিলেন রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিক শাহিদা আক্তারের বাবা হোসেন মিয়া। আজ ২৪ তারিখ ৮ বছরপূর্তিতে আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের কথা শুনতে একজায়গায় করেছিল গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি। সেখানে শাহিদা আক্তারের বাবা অনেকক্ষণ অন্যের কথা শুনছিলেন ভাবলেশহীন মুখে। তাকে কথা বলতে বলা হলে প্রথমে তিনি বলতে রাজি হননি। পরে তিনি কথা শুরু করেন। ১৭ রাত ১৮ দিন মেয়ের লাশ খোঁজার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁপে ওঠে চোখের পাতা।
কথা বলছিলেন আহত শ্রমিক রূপালি। তেজদীপ্ত রূপালি চান তার এই দশার জন্য যে দায়ি, যারা দায়ি তাদের বিচার হোক। কেন রানা প্লাজার মালিক রানার আট বছরেও বিচার হয় না, সেই প্রশ্ন তুলে রূপালি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, সেদিন মরে গেলে বেঁচে যেতাম। যে যন্ত্রণায় বেঁচে আছি, এর চেয়ে সেদিন মরে যাওয়া হয়তো ভালো ছিল।’ সব শ্রমিক যদি রানার বিচার চেয়ে রাস্তায় নামে সেটা খুব ভাল হবে না উল্লেখ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান রূপালি।
বিচারের দাবি নিয়ে কথা বলেন নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বির মা। ছেলের লেমিনেটিং করা ছবি বুকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছেলে হারায়েছি। বিচারটাও পেলাম না। আর যেটাকে আপনারা ক্ষতিপূরণ বলেন সেটা আসলে কী? মৃত মানুষের ক্ষতিপূরণ ৫-১০ লাখ টাকা হয়? আমার সন্তান বেঁচে থাকলে কত আয় হতো আট বছরে। তার বেঁচে থাকার মূল্য আছে না?’
তিনি কান্নাজড়িত কল্ঠ বলেন, ‘কেউ যেন সন্তানহারা না হয়। ৫তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৯তলা বানিয়ে যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচার হতে এতদিন লাগে কেন?’
উল্লেখ্য, রানা প্লাজার ঘটনায় দায়ের করা চার মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে কেবল একটির। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। বাকি তিন মামলার বিচারকাজ সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে ঝুলে আছে।
এর মধ্যে হত্যা মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। ইমরাত নির্মাণ আইনে দায়ের করা দুই মামলার মধ্যে রাজউকের মামলাটি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং ইমারত নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।









