রানা প্লাজা ও কারখানার মালিকসহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কর্মক্ষেত্রে মালিকের অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছরপূতির্তে স্কপের পক্ষ থেকে রানাপ্লাজা ধ্বসে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে এসে শ্রমিক নেতারা এই দাবি জানান।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) স্কপ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৯টায় জুরাইন কবরস্থানে স্কপ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, সুলতান আহমেদ, মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং সকাল ১০টায় সাভারে রানাপ্লাজা শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে স্কপ নেতা কামরুল আহসান, আব্দুল ওয়াহেদ, আহসান হাবিব বুলবুল, অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— খালেকুজ্জামান লিপন, ফিরোজ হোসেন, আফজাল হোসেন, রতন মিয়া, সফিউল আলম বুলু, আব্দুল গণি রাজা, এস,এম,কাদিও, মাহবুবুল আলম বাদল প্রমুখ।
৪১ জন আসামির কেউ কারাগারে নেই
পুষ্পস্তবক অর্পণকালে নেতারা বলেন, ৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও রানাপ্লাজা ধ্বসে ১১৩৬ জন শ্রমিকের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর মতো নির্মম ঘটনার আভিযোগ পত্র দিতেই সময় নেওয়া হয়েছে ৩ বছর। আর ৮ বছর পরও বিচার সম্পন্ন হয়নি। শ্রমিক নেতারা উল্লেখ করেন, ভবন মালিক সোহেল রানা ব্যতীত অভিযোগ পত্রের ৪১ জন আসামির আর কেউ কারাগারে নেই। শ্রমিক হত্যার জন্য এদেশে কোনও শাস্তি পেতে হয় না। রানাপ্লাজা শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া তারই উদাহরণ। বিচারহীতার এই ধরনের দৃষ্টান্তের জন্যই স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে ৮ ঘণ্টা কাজ, বকেয়া বেতনের দাবি করায় শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করার মততো ঘটনা ঘটছে। নেতারা অবিলম্বে রানাপ্লাজা ধ্বসসহ কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আজীবন আয়ের পরিমাপে ক্ষতিপূরণ দাবি
স্কপ নেতারা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২৪ এপ্রিলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস’ ঘোষণা এবং শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণের সংশ্লিষ্ট ধারাটি সংশোধন করে কর্মক্ষেত্রে মালিকের অবহেলাজনিত কারণে শ্রমিকের মৃত্যুতে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের পরিমাপে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।









