‘প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে হবে। দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের নাগরিককে মৌলিক প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা না করে প্রতিরক্ষায় অস্বাভাবিক ব্যয় অগ্রহণযোগ্য। প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে জনস্বার্থ ও সামাজিক সুরক্ষানির্ভর বাজেট দিতে হবে। সামরিক বাহিনীর ব্যয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোকে একটি উৎপাদনশীল বাহিনীতে পরিণত করে গড়ে তুলতে হবে।’ রবিবার (৩০ মে) বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলেন আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।
রেজাউল করীম বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের আগে জনমানুষের সঙ্গে আলাপ করা হবে। আদতে তা হয় না। অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে, সমাজ ও বাস্তবতা বিমুখ আমলাদের দিয়ে বাজেট তৈরি করে। ফলে আমাদের বাজেটের কলেবর বাড়ে, কথার ফুলঝুরি উপচে পড়ে, কিন্তু কাজের কাজ কমই হয়।’
দলের পক্ষে বাজেট নিয়ে দাবি তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, ‘বাজেট উপস্থাপনের আগে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করতে হবে। কল্পনাবিলাস বাদ দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সক্ষমতা পরিমাপ করে সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া। আমরা জানি, গত অর্থবছরে চিকিৎসা গবেষণায় টাকা রাখা হলেও সেই টাকা ব্যবহার হয়নি। তারপরেও এ বছর আবারও চিকিৎসা গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এমন উদাহরণ আরও অনেক দেওয়া যাবে। সক্ষমতাহীন এমন বরাদ্দ দুর্নীতির রাস্তা খুলে দেয়। ঋণ ও অনুদাননির্ভর বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনও দেশের পক্ষে ঋণ ও অনুদাননির্ভর বাজেট শোভা পায় না। শিক্ষা ও জনসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। এখানে প্রসঙ্গত বলে রাখি, বাজেটের বরাদ্দ দেখানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কাম্য। শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়, তার সঙ্গে অন্যখাতও জুড়ে দেওয়া হয়। আমরা মনে করি, এই চতুরতা বাদ দেওয়া উচিত। বাজেটের ১৫%-এর মতো অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হচ্ছে। এটি শোভনীয় না। এটিকে যুক্তিসঙ্গত করতে হবে। থোক বরাদ্দ কমাতে হবে। এডিপি বাস্তবায়নের হার খুবই কম। আমলাদের অদক্ষতার কারণেই এটি হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’









