করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগে পোশাক শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। শুক্রবার (১৮ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে সংগঠনটি। সমাবেশ থেকে শ্রমিক হত্যা, নির্যাতন ও করোনাকালে একের পর এক কারখানা বন্ধেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’র সভাপ্রধান তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন দাস, অর্থ সম্পাদক প্রবীর সাহা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, আশুলিয়া শাখার সভাপ্রধান বাবুল হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপ্রধান তাসিলমা আখতার বলেন, গত ১৩ জুন ঢাকা ইপিজেডে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা লেনি ফ্যাশনের শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা বলে কারখানায় ডেকে এনে পাওনা পরিশোধের বদলে লাঠিপেটা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে নির্যাতন করা হয়। এই বর্বর হামলায় কারখানায় যাওয়ার পথে পিলারে লেগে গোল্ডটেক্সের শ্রমিক জেসমিন বেগম নিহত হন। এ ছাড়াও আশুলিয়ার এসডিএস ডাইং-এর শ্রমিক হাসান এবং রাশেদুল বয়লার বিস্ফোড়নে দগ্ধ হয়ে মারা যান। আমরা এর নিন্দা জানাই।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, জেসমিন, রাশেদুল ও হাবিবের মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ডের শামিল। এই ঘটনায় তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন বক্তারা। তারা বলেন, এভাবে একের এক শ্রমিক হত্যা, প্রশাসনের অবহেলায় মৃত্যু প্রমাণ করে এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের মানুষ মনে করে না।
নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ক্রমাগত সীমান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। ডাক্তার, পুলিশ, ব্যাংকার, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ অনেক পেশার মানুষ জরুরি পরিষেবার কর্মী হিসেবে ভ্যাকসিন পেয়েছে। কিন্তু আমাদের পোশাক শ্রমিকরা অর্থনীতি চালু রাখার জন্য বরাবরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য না আছে চিকিৎসা, না আছে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা।
করোনাকালে বিশেষ স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানিয়ে পোশাক শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।









