রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৯৫টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন সম্পদের দলিল ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে সিআইডির ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, একজন ভুক্তোভোগীর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটির এজাহার নামীয় দুই আসামি মো. জসিম উদ্দিন (৩৬) ও মো. সালাউদ্দিনকে (৩৫) প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. মুসা (২৬), মো. রাকিবুল ইসলাম রানা (৩৩), মো. গোলাপ হোসেন বুলবুল (৩৪), মো. জাকির হোসেন (৩৪), মো. নাজমুল (২৫), মো. আলম (৩৫) ও শাহজাহান সরকারকে (৪৩) গ্রেফতার করে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, পাসপোর্ট ছাড়াও পাচারকারী চক্রের মূলহোতা মো. তুহিন সিদ্দিক অমির (৩৩) চারটি বিলাস বহুল গাড়ি, ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত ষ্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ভিসা কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল সেট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, মামলার বাদি শাহীন আলমসহ (২২) শত-শত লোককে বেশি বেতনে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। চক্রটি ভিকটিমদের প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিলো। এছাড়াও আরও অনেক সহজ-সরল লোকদের দুবাই, মালেয়েশিয়া, সিংগাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
চক্রটি মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছে এবং তারা স্বল্প সময়রে মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা।









