দেশের উপজেলা পরিষদের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৬১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বাকি ৯৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা সাহায্য থেকে মেটানো হবে। জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০০টি উপজেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট উপজেলাগুলোকেও এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যনদের উৎসাহিত করতেই এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পরে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ উদ্যোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের জুন নাগাদ শেষ করবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতায়) বা বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দ ছাড়া প্রতিফলিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণে পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশিক্ষণ এবং তহবিল হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের কাছে কার্যকর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিই হচ্ছে এ প্রকল্পের সার্বিক উদ্দেশ্য।
এছাড়া, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উন্নয়ন. বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মরত সব সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ এই তিন স্তরের কাঠানো রয়েছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোয় স্বায়ত্তশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ এবং কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। উপজেলা পরিষদকে স্থানীয় সরকারের কেন্দ্রবিন্দু ধরে বিবেচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের ফলে স্থানীয় কাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম নির্বাচন এবং এডিপি বাস্তায়ন যথাযথ হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকরী সংযোগ স্থাপিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে সেবার মান ও পরিমান বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে-অতিরিক্ত তহবিল দেওয়ার মাধ্যমে উপজেলার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ১০০ উপজেলায় এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব উপজেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ সিস্টেম, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার প্রভৃতি কাজ করা হবে।
এছাড়া চেয়ার , টেবিল, ব্লাকবোর্ড, স্কুলবাস প্রভৃতি সংগ্রহ। ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, রোগীর বিছানা, অ্যাম্বুলেন্স প্রভৃতি সংগ্রহ। একই সঙ্গে নতুন কূপ খনন, পুরানো কূপ প্রতিস্থাপন, সংস্কার, বৃষ্টির পানির জন্য জলাধার নির্মাণ, কৃষি কাজে সেচ এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান, যানবাহন, পাইকারি বাজারের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে সাথে মাঠ পর্যায়ে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মরত সব সদস্যের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটির পরামর্শক খাতে ৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। যা অত্যধিক বলে প্রতীয়মান হয়। আলোচনার মাধ্যমে এ খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। টিম লিডার, ডেপুটি টিম লিডার এবং অন্যান্য কিছু পরামর্শকের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। যা উল্লেখ করা প্রয়োজন। এটি নির্মাণধর্মী প্রকল্প হলেও পরামর্শকের তালিকায় প্রকৌশলীর সংস্থান রাখা হয়নি। কাজেই ডিজাইন এবং সুপারভিশনের জন্য উপযুক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সংস্থান পরামর্শক খাতে রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রত্যেক পরামর্শকের মাসিক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খরচের হিসাব পৃথকভাবে বিভাজন দেখানো প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, এটি অনেক দিনের লালিত প্রকল্প। উপজেলার খুটিনাটি উন্নয়নে এ ধরনেরর একটি প্রকল্প নেওয়ার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের চাপ ছিল। অর্থের যোগান হওয়ামাত্র প্রকল্পটি নেওয়া হলো। প্রাথমিকভাবে ১শ’টি উপজেলার জন্য প্রকল্পটি চূড়ান্ত হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলার উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হবে।
/এসআই/ এমএনএইচ/








