রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুরে সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় আঙিনায় বসেছে কোরবানির পশুর হাট। এতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে গিয়ে শিক্ষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদেরও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাশে ফাঁকা মাঠ থাকার পরও স্কুলের আঙিনায় পশুর হাট বসানো হয়েছে কিছু মানুষের সুবিধার জন্য। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই এখানে হাট বসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি হাট বসানোর জন্য ইজারা দেইনি। আমার এ বিষয়ে কিছু করার নেই।’
অভিভাবকরা জানান, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। শিক্ষার্থী অথবা অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে যেতে হয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে। এ বিষয়টি জানার পরও হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে প্রতি বছরই এই বিদ্যালয় আঙিনায় কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয় একটি পবিত্র জায়গা। একটা সুস্থ, সুন্দর জাতি গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। অথচ কয়েক বছর ধরে ধলপুরে সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি কোরবানির পশুর হাট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হাট পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা বর্জ্যের গন্ধে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে পারে না। তার ওপর এবার করোনা মহামারির এই সময় দুর্গন্ধযুক্ত একটি নোংরা পরিবেশ তৈরি হলে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া ও জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আগে গোলাপবাগ মাঠের নামে হাট ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে মাঠ না থাকায় এলাকার ইজারাদাররা স্কুলটিকে পশুর হাট হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের স্বার্থে।









