ভয়ংকর মাদক পর্ব- ২

৫০ বছরে মাদক বদলেছে পাঁচবার

আমানুর রহমান রনি
২৬ জুলাই ২০২১, ১৬:০৯আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ১৬:৩২

দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ও বাজার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন অন্যতম। প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে কারবারিরা। তবু থেমে নেই নতুন মাদকের আমদানি। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকলো দ্বিতীয় পর্ব।

শতবছর আগে থেকেই এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের মাদকের প্রচলন ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও অব্যাহত আছে এ ধারা। তবে গত ৫০ বছরে অন্তত পাঁচবার মাদকের ধরন পরিবর্তন করেছে সেবীরা। আফিম-গাঁজা দিয়ে শুরু হয়ে যা এখন ঠেকেছে ম্যাজিক মাশরুম-এ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গবেষকরা বলছেন, মাদক পরিবর্তনের এ ধারা কয়েকটি কারণে ঘটে। একসময় হেরোইন ও ফেনসিডিলের চাহিদা ছিল বেশি, পরে ওই বাজার দখল করে ইয়াবা। ইয়াবা থেকেও এখন অন্য মাদকে যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে।

প্রতি দশকে নতুন মাদক

বাংলাদেশে গড়ে এক দশক পরপর মাদকের ধরন ও বাজার বদলেছে। তবে ইয়াবা ও গাঁজার রাজত্ব আছে আগের মতোই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর হাতে জব্দ মাদক গাঁজা (ফাইল ছবি)

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে ধূমপানের পাশাপাশি গাঁজা, আফিম ও দেশি মদের বেশ দৌরাত্ম ছিল। ১৯৮৪ সালের দিকে মাদকসেবীরা মৃতসঞ্জীবনী, গাঁজা, ও বিভিন্ন ধরনের তরল নেশাদ্রব্য পান শুরু করে।

ছয় বছর পর ১৯৯০ সালে ভারত থেকে আসতে শুরু করে ফেনসিডিল। নব্বই দশক থেকে শুরু হয় হেরোইন, গাঁজা ও মদ। ২০০০ সালে এসব মাদকের পাশাপাশি যোগ হয় নানা ধরনের ইনজেকশন। তখন সরাসরি শরীরে মাদক পুশ করে নেশার জগতে বুঁদ হয়ে থাকতো সেবীরা। ২০০৫ সালে আসে ভয়ংকর ইয়াবা। গত দেড়যুগে এটি ছড়িয়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো। গ্রামগঞ্জেও এখন ইয়াবার রমরমা বাজার।

২০০৮ সালের দিকে আঠাজাতীয় রাসায়নিকের ঘ্রাণ নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। মূলত বস্তি ও পথশিশুদের মধ্যে এ মাদকের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এর মাঝে ২০১৯ সালে দেশে আসে আইস ও এলএসডি। আর এ বছর সন্ধান পাওয়া যায় ম্যাজিক মাশরুম ও ডিএমটি নামের আরও ভয়ানক মাদকের।

ভয়ংকর মাদক আইস

আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বলছে

গত ২৪ জুন মাদক নিয়ে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ইউএনওডিসি)। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে মাদক সেবনকারী মানুষের সংখ্যা ১১ শতাংশ বাড়বে।

এই সময় আফ্রিকাসহ অনুন্নত দেশগুলোতে মাদক সেবন বাড়বে ৪০ শতাংশ। আর উন্নত দেশে কমবে ১ শতাংশ। তবে মাদক বাজারে করোনার প্রভাবও পড়তে পারে। অন্যদিকে এই সময়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক মাদক বিক্রিও বেড়েছে।

সংস্থাটির দাবি, ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এখন বিশ্বে সাড়ে ৩১ কোটি ডলারের মাদক বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বর্তমানে বৈধ ওষুধকেও মাদকে রূপান্তর করে ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে।

সংস্থাটি দাবি করেছে বাংলাদেশে যত মাদক ঢুকছে তার মাত্র ১০ শতাংশ ধরা পড়ে। ৯০ শতাংশই চলছে অবাধে। এই হিসাবে গতবছর দেশে ৩০ কোটি ইয়াবা বড়ি বিক্রি হয়েছে। গড়ে প্রতি বড়ি সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা হিসাবে যার বাজারমূল্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বেশিরভাগই চলে গেছে ইয়াবার মূল উৎসস্থল মিয়ানমারে।

গবেষণা বলছে, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন মাদকের বাজার আছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার।

তবে উন্নয়ন সংস্থা মানস-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘মাদকসেবীরা একটি না পেলে আরেকটি নেবে। আবার সাপ্লায়ার যখন যা সাপ্লাই দিতে পারবে তারা সেটা নিতেও বাধ্য। ইয়াবা যেসব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি, সেগুলাও সরাসরি ইয়াবাসেবীরা পাচ্ছে। আইস তার মধ্যে অন্যতম। ইয়াবা তৈরি হয় এমফিটামিন দিয়ে। আইস হচ্ছে সরাসরি এমফিটামিন। এটি সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করলেই শরীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেশি।’

/এফএ/
টাইমলাইন: ভয়ংকর মাদক
২৯ জুলাই ২০২১, ১৫:০০
২৮ জুলাই ২০২১, ১৩:০০
২৬ জুলাই ২০২১, ১৬:০৯
৫০ বছরে মাদক বদলেছে পাঁচবার
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম