আগুনের ঘটনা ঘটলেই ভবন কিংবা প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করেন, ‘এটা নিছক দুর্ঘটনা’। এমনটা বলে নিজেদের অসচেতনতা আড়াল করতে চান তারা। এ কারণে ভবন বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের অসচেতনতা দেখভাল করতে সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট সেল গঠন করার পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি ও তদারকি চলমান থাকলে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অবহেলা আর লুকাতে পারবেন না। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও কমে আসবে বলে জানান তারা।
গত শনিবার ২১ আগস্ট রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ির ৭৯ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলছে সেখানকার প্রতিষ্ঠান এমিকন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন এমিকনের কর্মকর্তা নাজিম। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন ছিল এ বিষয়ে কিছু না জানালেও তিনি বলেন, ক্রেস্ট বানানোর উপকরণ ছিল গোডাউনে, কোনও রাসায়নিক ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবনের অনুমোদন নেওয়ার পর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, ভবনের সিঁড়িতে কোনও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কিনা সেটা তদারকির বিপরীতে প্রতিবছর নবায়নযোগ্য সনদ দেওয়া প্রয়োজন। এতে আগুনের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান ও ভবন মালিক নিজ উদ্যোগেই সচেষ্ট থাকবে। সচেষ্ট না হলে ভবনটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারবে কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট সেল।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশেষ করে ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে সিটি করপোরেশনের অধীনে ভবনগুলো পরীক্ষা ও তদারকির জন্য বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি কমিটি করতে হবে। ওই কমিটিই কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট দেবে। সিটি করপোরেশনে যেকোনও ভবনকে বাসের অনুপোযোগী ঘোষণা দিতে পারে এমনকি ভেঙে ফেলার নির্দেশও দিতে পারে।’
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বনানীর সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ঘটনায় যাদের গাফিলতি উঠে আসবে তাদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত দাহ্য বস্তু ও ভেন্টিলেশন না থাকাতেই আগুনের পাশাপাশি ধোঁয়ার তীব্রতা কমাতে সময় লেগেছে ফায়ার সার্ভিসের।’








