ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দক বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বঙ্গবন্ধু যেভাবে গোছাতে চেয়েছিলেন সেভাবে যদি সাজাতে চাই, তাহলে বৈপ্লবিক কিছু পরিবর্তন করতে হবে। শুধু রুটিনমাফিক কথা বললে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা যাবে না।’
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ‘বিশ্ব নাগরিকত্ব শিক্ষা প্রচারের মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইউনেস্কো কর্তৃক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়সমূহের প্রসার’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন ও ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের সহযোগিতায় বিএনসিইউ মিলনায়তনে জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে পুরো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করে একমুখী ও বাধ্যতামূলক করেছেন। অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা অর্থের অভাবে এই বাধ্যতামূলক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না ভেবে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবৈতনিকও করে দিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন, যাতে শিশুদের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়। শিশুদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হলে সারাজীবন তাদের মধ্যে এই বৈষম্য বোধটা থেকে যাবে। আর যদি বৈষম্যহীন একটা চেতনা শিশুদের মধ্যে সৃষ্টি করা যায় তাহলে তারা সমাজে সমমর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন। কর্মশালায় তাত্ত্বিকভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাইরের দেশে ঘুরিয়ে বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তার ওপর অ্যাসাইনমেন্ট ও মূল্যায়ন—এমন একটি প্রোগ্রাম চালু করালে ভালো হয়।’
এ সময় তিনি এই কর্মশালায় মাধ্যমিকের পরিবর্তে নিম্ন মাধ্যমিক থেকে শুরু করতে এবং বিশ্ব নাগরিক হতে সবার মধ্যে সমানুভূতির দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. সোহেল ইমাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুল ইসলাম, সংগঠনের মহাসচিব জনাব মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী ও ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিস হু হুয়া ফ্যান। কর্মশালার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের জাতীয় সমন্বয়ক জনাব হাবিবুল হায়দার চৌধুরী
উল্লেখ্য,এই কর্মশালাটি দেশের ১৮টি স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ৯টি বালক স্কুল এবং ৯টি বালিকা স্কুল রয়েছে।









