রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে রিকশায় প্যাডেল মেরে বেঁচে আছেন মো. নাজিম উদ্দিন। বয়সের কোটা ৭০ বছর পেরিয়েছে। গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। পুরান ঢাকার বংশালের একটি মেসে ভাড়া থাকেন। একসময় ব্যবসা করলেও বতর্মানে তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন রিকশা। পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপায়ন্তর খুঁজে না পেয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে আসেন।
নাজিম উদ্দিনের কথায়, ‘একসময় আমার কোনো অভাব ছিল না। পদ্মার ভাঙনে জায়গা-জমি সব হারিয়ে পথে বসতে হয়েছে। গ্রামে আমার দুই মেয়ে আর স্ত্রী। কোনো ছেলে নেই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি দরিদ্র ঘরে। যৌতুক দিতে দিতে আমি শেষ। তবুও মেয়েদের সুখের কথা ভেবে আর ভালো থাকার জন্য প্রতিনিয়ত দিয়েই যাচ্ছি।’
রিকশা চালিয়ে নাজিম উদ্দিনের প্রতিদিন আয় হয় ৩৫০-৪০০ টাকা। মেসে তার প্রতিদিন থাকা-খাওয়ার খরচ ১১০ টাকা। মাঝে মধ্যে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়লে বা আয় কম হলে মেসে না গিয়ে রিকশাতেই রাত কাটান।
শেষ কবে ভালো খাবার খেয়েছেন মনে নেই নাজিম উদ্দিনের। ইলিশ মাছ তার প্রিয়। পদ্মাপাড়ের মানুষ হয়েও গত বছর শেষবার ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছেন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। আর খাওয়া হয়নি। যেখানে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় সেখানে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া বিলাসিতা ছাড়া তার কাছে আর কিছু না।
নাজিম উদ্দিন নিরক্ষর নন। ১৯৬৪ সালে মেট্রিক পাস করেছেন। তার আক্ষেপ, ‘লেখাপড়া জানলেও এখন এই বয়সে তো আর কোনো চাকরি পাবো না। তাই উপায় না দেখে রিকশা চালাই।’









