ভারতে বৃষ্টি হলেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর মহোৎসব চলে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
সোমবার (১১ অক্টোবর) একাত্তর টিভির নিয়মিত আয়োজন ‘একাত্তর জার্নালে’ যুক্ত হয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বার্তা সম্পাদক মাসুদ কামালের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মিথিলা ফারজানা।
দেশে ৮০ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এবং ২০ শতাংশ ঘাটতি থাকে। তারপরও দাম বাড়ে। এই প্রস্তুতি আগে নেওয়া হয় না কেন— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ ভারত আমাদের পেঁয়াজে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর আগেই আমাদের প্রস্তুতি ছিল। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ টিসিবির হাতে রয়েছে। টিসিবি হয়তো পুরো মার্কেট কন্ট্রোল করতে পারবে না। তবে নিম্ন আয়ের বা নিম্ন শ্রেণির মানুষের কাছে কিন্তু ত্রিশ টাকা কেজি বিক্রি করছে।
তিনি বলেন, এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ মেট্রিক টন। আর আমাদের ব্যবহারে লাগে ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে যেটুকু পচে যায়, সেজন্য ভারত থেকে কিছু আমদানি করতে হয়। যার পরিমাণ ২০ শতাংশ।
যেখানে ২০ শতাংশ আমদানি যেখানে দেশের ৮০ শতাংশকে ম্যানুপুলেট করা হচ্ছে— এমনটা জানিয়ে সচিব বলেন, বিষয়টি হচ্ছে, ভারতে বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দেশের গ্রামের হাঁট থেকে যে পেঁয়াজটা আসে বিশেষ করে পাবনা ও ফরিদপুর থেকে, সেখানে ১২ শ’র পেঁয়াজ কীভাবে ২৪ শ’ টাকা হলো? এখানে ম্যানুপুলেট হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে গ্রামের হাঁট থেকে শুরু থেকে প্রতিটি পর্যায়ে।
সফিকুজ্জামান বলেন, ভারতে যখন বৃষ্টি, তখন দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর একটি মহোৎসব চলে।
এখন অনেকেই মনিটরিংয়ের কথা বলবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কথা বলবে— এমন মন্তব্য করে সচিব বলেন, আমি স্পষ্ট বলতে চাই; আমাদের বিকল্প যেটা আছে সেটাও ধরে নেবো। যেমন ভারত থেকে আজও ১৮০ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকেছে। সেক্ষেত্রে পেঁয়াজের কোনও ঘাটতি নেই। তাহলে কেন দাম বাড়ছে? এটা হচ্ছে প্রতিটি স্তরে স্তরে। এই মহোৎসব যেন বন্ধ হয় অলরেডি ব্যবস্থা নিয়েছি।
‘এক সপ্তাহ আগেও সব ঠিকঠাক ছিল। এখন ভারতে বৃষ্টি হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে ৪০ টাকার পেঁয়াজ ৭০ টাকা হয়ে যাবে, এটা বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোনও দেশের ফর্মুলায় পড়ে না’— যোগ করেন তিনি।








