সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিশেষ নিরাপত্তা আইন’ চায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৫২আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৫২

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আলাদা মন্ত্রণালয় ও বিশেষ নিরাপত্তা আইনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, দেশে বিদ্যমান আইন সংখ্যালঘুদের সুবিধা দিতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা আইন করা দরকার।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষায় অবিলম্বে দেশে ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়’ ও ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়, তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নতুন আইন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, কেবল আইন করে নয়, সংখ্যালঘুদের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে সামাজিক পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিবছরের মতো আগামী বছরও পূজামণ্ডপ বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘর বাড়িতে আক্রমণ ঠেকাতে এখনই নতুন আইন করা দরকার। আমাদের দেশে যেহেতু প্রতিবছরই হামলার ঘটনা ঘটে থাকে তাই আগামী বছর এই হামলা আর না দেখতে চাইলে মানুষকে আইন করে বাধ্য করতে হবে।

‘কুমিল্লাসহ সারাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো’ দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন সংগঠনের নেতারা। প্রধানমন্ত্রী সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়ার পরও প্রশাসন কেন ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারছে না তার আসল রহস্য কী তা খুঁজে বের করার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

‘বারবার কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে’- তার প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ সমস্যার সমাধান চান তারা। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটা হয়েছে এবং ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। সরকার আরও সচেতন হলে অচিরেই এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামের নেতারা।

নাগরিকদের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন দাবি দাওয়া পুরন করা প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সরকার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। 

ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামসহ সমমনা হিন্দু সংগঠনগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলে দাবি আদায় করা হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

/আরটি/ইউএস/
সম্পর্কিত
এআইকে ফাঁকি দিতে নয়, ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান
একটি গোষ্ঠী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে বিকালে সংবাদ সম্মেলন
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম