শিল্পী আক্তারের বয়স তখন ৮ বছর। টানাটানির সংসারে দরিদ্র বাবা তাকে এক আত্মীয়র মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান। খিলগাঁওয়ের বনশ্রী জি ব্লকে ২ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় ব্যবসায়ী ওয়াহিদ ঢালীর বাসায় কাজও পায় সে। কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে তার ওপর শুরু হয় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একাধিকবার কাজ ফেলে চলে যেতে চায় সে। তবে চলে যেতে চাইলে গৃহকর্তা তাকে হত্যার হুমকি দিতো। তার বাবা-মাকে পুলিশে দেওয়ার ভয়ও দেখাতো। এভাবে চার বছর অত্যাচার সহ্য করে পড়েছিল সে ওই বাসাতেই।
গত সোমবার রাতেও সামান্য অজুহাতে তার ওপর চলে অমানসিক নির্যাতন। সারা রাত রান্না ঘরের মেঝেতে পড়েছিল সে। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে পড়ে থাকার পরও কেউ এক গ্লাস পানিও দেয়নি তাকে। মঙ্গলবার ভোরে সে ওই বাসা থেকে পালিয়ে তুরাগ বাসে চড়ে টঙ্গীতে চলে আসে। বাস স্টেশনে নামলে লোকজন তাকে ঘিরে ধরে।
মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,সকাল ১০টার দিকে টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষের ভিড় দেখে এগিয়ে যান তিনি। শিল্পী আক্তারের সারা শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। তিনি শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।পরে খিলগাঁও থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি।
শিল্পী আক্তার জানায়, তার গ্রামের বাড়ি শরীয়পুর জেলার গোসাইরহাট থানার পশ্চিম মাছুয়াখালীতে। বাবার নাম আলতাফ ব্যাপারি।সামান্য অজুহাতে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী তাকে অমানসিক নির্যাতন করতো। সোমবার রাতে মশারি টানাতে দেরি হওয়ায় তাকে লাঠি পেটা ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেয় গৃহকর্ত্রী।
খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার বিকেলে শিল্পী নামে এক গৃহকর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজকে আটক করা হয়েছে।
/এআরআর/এমএসএম








