অনিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যা জানে না কেউ

রিয়াদ তালুকদার
১৪ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১৩আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১৩

অবৈধ ও অনিবন্ধিত নৌযানের কারণে বিভিন্ন সময়ে নদী পথে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়। নিবন্ধনের আওতায় এনে যথাযথ নজরদারি থাকলে এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন নৌযান সংশ্লিষ্টরা।

নদীপথে এসব কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব সরকারের দুই সংস্থা- বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌ পরিবহন অধিদফতরের।

সূত্র জানায়, চলাচলরত অবৈধ বা অনিবন্ধিত নৌযানের পরিসংখ্যান নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ নৌযান বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় কর্তা-ব্যক্তি এমনকি প্রশাসনের কারও কারও ছত্রছায়ায় চলছে।

জানা যায়, দেশে নৌযান চলাচলের উপযোগী পথ রয়েছে ৫ হাজার কিলোমিটার। এই নদীপথে ১৬ অশ্বশক্তির ইঞ্জিনচালিত নৌযানের লাইসেন্স ছাড়া চলাচল নিষিদ্ধ। অবৈধভাবে চলাচল করলে আইনের আওতায় এনে এসব নৌযানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

নৌ পরিবহন অধিদফতর সূত্র জানায়, নিবন্ধিত নৌযানের মোট সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৮৬টি। ধরন অনুযায়ী এসব নৌযানের মধ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ ৮৩৮টি, যাত্রীবাহী বোট ৪১৭টি, মালবাহী নৌযান ৪২৮৪টি, তেলবাহী নৌযান ৩৩৯টি, ফেরি ৪০টি, ড্রেজার ১৩৫২টি, স্পিড বোট ৩৪০টি, ওয়ার্ক বোট ৬৩টি, বার্জ ৪৭৮টি।

সব নৌযানকে নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদের আওতায় আনতে না পারলে এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না বলে মনে করেন নৌযান মালিকরা।

লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই ব্যবসায় আমরাও লাভবান হই এবং সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স দেই। আমরা শুধু ট্যাক্স দিয়ে যাব‑ লাভ করতে পারবো না, লাভবান হবো না, তা তো হয় না।

নৌযান মালিক আবু বকর সিদ্দিক খান বলেন, যেসব নৌযান নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছে, সেগুলোকে অবিলম্বে নিবন্ধনের আওতায় আনা হোক।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নৌ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। যখনই কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়‑ যা দায়সারা চেষ্টা মাত্র। এই তদন্ত কমিটিগুলো আলোর মুখ দেখে না। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট নিয়ে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতেও দেখা যায় না। অবৈধ নৌযান চলাচলের জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান, তাদের অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অনিবন্ধিত এবং অবৈধ নৌযানগুলো চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। সে কারণে নৌযানগুলো লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন অবস্থায় নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। আর এতে করে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, নদী পথে চলাচলরত নৌযান দেখে বোঝার উপায় থাকে না কোনটা নিবন্ধিত আর কোনটা নিবন্ধিত নয়। আর অনিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা কত এ বিষয়ে কোনও ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ'র যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোন নৌযানের নিবন্ধন রয়েছে, কাদের নিবন্ধন দেবে, কোনটার সার্ভে রয়েছে, কোনটার মাস্টারের সার্টিফিকেট ঠিক আছে‑ এসব বিষয়ে দেখভালের দায়িত্ব নৌ-পরিবহন অধিদফতরের। এ বিষয়টি উনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের কাজ হচ্ছে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া। নৌপথে কোনও মার্কিং শর্টেজ রয়েছে কিনা নৌপথে নৌযান চলাচলের বিষয়ে আমরা কাজ করে থাকি। তবে অনিবন্ধিত নৌযান চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এসব বিষয়ে নৌ পরিবহন অধিদফতর ভালো বলতে পারবে।

বাংলাদেশ নৌ পরিবহন অধিদফতরের পরিচালক বদরুল হাসান লিটন বলেন, অনিবন্ধিত নৌযান চলাচল প্রতিরোধে নৌ অধিদফতরের পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষ, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, র‍্যাবের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে কি পরিমাণ অনিবন্ধিত নৌযান চলাচল করছে এ ধরনের কোন পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে অনিবন্ধিত ও অবৈধ নৌযান শনাক্তে আমাদের একটি সার্ভে চলছে।

নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর আবু জাফর মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রশিক্ষিত নাবিক কিংবা সনদধারী চালক দিয়ে যদি নৌযানগুলো পরিচালনা করতে পারি তাহলে নৌ দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা অনুনোমোদিত নৌযানগুলো চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। নৌযান চালকদের বিভিন্ন বিষয়ে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। তিনি আরও বলেন, যেসব জায়গায় আমাদের কর্মকর্তারা  রয়েছেন, তারা সারাক্ষণই তদারকি করে থাকেন। নিয়মিত আমাদের কাছে রিপোর্ট দিয়ে থাকেন।

/এমএস/
সম্পর্কিত
দৌলত‌দিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩০১ যানবাহন পারাপার
মাঝ নদীতে বড় বিপদে ৫০০ যাত্রীর নৌযান, তীরে উঠেই দিলেন সিজদা
মানা হচ্ছে না নির্দেশনা, ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ ফেরিতে উঠছে বাস
সর্বশেষ খবর
৪৫৫ মিটার উচ্চতা, চিনে নিন ভারতের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত কুঞ্চিকাল
৪৫৫ মিটার উচ্চতা, চিনে নিন ভারতের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত কুঞ্চিকাল
দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি
দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি
বিশ্বকাপের নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের আলমিরন 
বিশ্বকাপের নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের আলমিরন 
বাড়ি কোথায় বলতে পারছে না শিশুটি, পরিবার হারিয়ে হাসপাতালে কাঁদছে
বাড়ি কোথায় বলতে পারছে না শিশুটি, পরিবার হারিয়ে হাসপাতালে কাঁদছে
সর্বাধিক পঠিত
আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুনের জানাজা অনুষ্ঠিত
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুনের জানাজা অনুষ্ঠিত
ফেসবুকে পরিচয় হওয়া বান্ধবীকে ‘উপহার দিতে এসে’ হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু
ফেসবুকে পরিচয় হওয়া বান্ধবীকে ‘উপহার দিতে এসে’ হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু
রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, সবচেয়ে বেশি লাভবান কারা?
রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, সবচেয়ে বেশি লাভবান কারা?