সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হলে সেখানে যারা থাকবেন তাদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলার মাঠ এবং বিনোদন কেন্দ্রসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
রবিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি আয়োজিত 'বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস-২০২১' উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) উঁচু ভবন অন্তর্ভুক্ত করতে অনেকেই দাবি তুলছেন। কিন্তু উঁচু ভবন করে শুধু মানুষ থাকলে হবে না, মানুষকে তো নিচে নামতে হবে। তাদের জন্য রাস্তাঘাট, পার্ক-মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দরকার। আমি ভবন উঁচু করলাম কিন্তু রাস্তায় যানজট থাকলো। উঁচু ভবন করে যানজট তৈরি করে রাস্তায় বসে থেকে আমাদের ডায়াবেটিকস আরও বাড়বে। এটা সবার জন্য ক্ষতি ছাড়া উপকার নেই।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, রাজধানীতে জনসংখ্যার আলোকে মাঠ ও পার্কের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে নতুন ড্যাপে পর্যাপ্ত পার্ক ও মাঠের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে। ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে এর সংকট কাটবে। এছাড়া ঢাকাকে আধুনিক-দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবকিছু পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী জানান, আমাদের বেঁচে থাকতে হলে জীবন যাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। ফাস্টফুড, কেমিক্যালযুক্ত পানীয়সহ অন্যান্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলোর মধ্যে কার্বোহাইড্রেড বেশি থাকে। এজন্য অর্গানিক ফুড খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের মাথাপিছু আয় বা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগের পরিমাণ বেড়েছে। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মোকাবিলা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেবে। তাই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারডেম একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য 'ডায়াবেটিস সেবা নিতে আর দেরি নয়।’









