সাধারণত বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বায়ুদূষণ কম হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের হিসেবে তা মারাত্মক দূষণের পর্যায়ে ছিল। একইসময়ে শব্দ দূষণের মাত্রাও ছিল অনেক বেশি। বর্ষার দূষণের মাত্রা এত বেশি হলে শুষ্ক মৌসুমে আরও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। শব্দ দূষণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি দূষণ হয় রাজধানী ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে, এরপর মিরপুর ১০ নম্বর, তৃতীয় অবস্থানে আছে মতিঝিল, চতুর্থ শাহবাগ এবং পঞ্চম অবস্থানে গুলশান। বায়ু দূষণের দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে আব্দুল্লাহপুর, দ্বিতীয় অবস্থানে গুলশান, তৃতীয় মিরপুর, চতুর্থ শাহবাগ অবস্থান করছে।
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমসহ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত করা এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসে। একই সময়ে বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামপুরের ট্যানারি এলাকার দূষণের পরিমাণও অনেক বেশি পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম-এর আয়োজনে ঢাকা শহরের পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণ পরিবীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে প্রথম ডাটা ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এই তথ্য উঠে আসে। কর্মশালাটি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েল সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকী। কর্মশালায় মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত বিষয়ে আলোকপাত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডি বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট-সিভিল সোসাইটি অ্যাডভাইজার সুমনা বিনতে মাসুদ; কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) প্রকল্পের ডেপুটি চিফ অব পার্টি শাহিদ হোসেনসহ অন্যরা।
অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, আমরা সাধারণত দেখি বর্ষাকালে দূষণ কমে আসে। কিন্তু এবার বর্ষার সময়সহ বৃষ্টির সময়ে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুলাই-এই চারমাসে আমাদের পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, দূষণের মাত্রা অনেক বেশি। এতে আমরা শঙ্কিত যে শুষ্ক মৌসুমে এই মাত্রা জরুরি অবস্থায় না নিয়ে যায়।
ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা সবাই কাজ করছি। তারপরও ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে দূষণ প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্ত, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনি কাঠামো এর প্রয়োগের জন্য সরকারী নীতি নির্ধারনী মহলের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ঢাকা ওয়াসার গবেষণাগারের পরিচালক ড. আলমগীর হোসেন ডিজলভড অক্সিজেন এবং ট্যানারি দূষণের ক্ষেত্রে ক্রোমিয়াম মাত্রা পরিমাপের বিষয়টি আমলে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) শাহনাজ রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়, তাই এইসময়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসাইন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকার বাতাসে নয় রকমের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যা মানবদেহে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে পরিচ্ছন্নতা অতীব প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দীন বলেন, দূষণ রোধে স্থানীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি করতে হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ দুই বছর ধরে পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণের মান পরিবীক্ষণ করবে।








