উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অসমর্থিত, অরক্ষিত এবং অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের কাজের ধরণের জন্য অনেকেই তাদেরকে এড়িয়ে যান। একটি নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারী এই জনগোষ্ঠীর জীবিকার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে এদের অনেকেই অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করছেন বা কোনও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঝুঁকি গ্রহণ করছেন। যে সময়ে অন্য অনেকে তাদের উপার্জনের পথ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) প্রকাশিত ওয়াটার এইডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০২১’ উপলক্ষে তা প্রকাশ করেছে এই সংস্থা।
‘স্যানিটেশন ওয়ার্কারস: দ্য ফরগটেন ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারস ডিউরিং দ্য কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিকস’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারিতে দেশব্যাপী লকডাউন চলাকালীন অনেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিরাপদ পানি, যথাযথ স্যানিটেশন এবং উন্নত স্বাস্থ্যসুবিধা ছাড়াই হাসপাতাল, কোয়ারেন্টিন সেন্টার এবং সামাজিক পর্যায়ে ফ্রন্টলাইনে কাজ করে গিয়েছেন। ভাইরাসের হুমকি ছাড়াও পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমে অনেক রকম বিপদ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা ও রোগের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে এবং তাদেরকে প্রায়শই মনুষ্য-বর্জ্যের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে আসতে হয়।
প্রতিবেদনের ফলাফলে দক্ষিণ এশিয়া, বুর্কিনা ফাসো এবং নাইজেরিয়ার কেসগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওয়াটারএইডের প্রধান নির্বাহী টিম ওয়েনরাইট বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওয়াশ পরিসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলমান ও ভবিষ্যৎ মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকতেও এটি অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ছাড়া এটি চলমান থাকা সম্ভব নয়। সকলের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বিনিয়োগ করা ও তাদের সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।








