রিটেইল খাতে জাতীয় পরিসরে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৪৪আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৪৪

বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশমান রিটেইল খাতে ইতোমধ্যেই ৬০ লাখেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সামনের বছরগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ, বিশেষ করে নারীদের জন্য এই খাতে জাতীয় পরিসরে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশের রিটেইল খাতে যুব কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসডিপি)। এর উদ্দেশ্য ছিল খুচরা বিক্রয় খাতে প্রশিক্ষণের পক্ষে অ্যাডভোকেসি করা, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনাকে উত্সাহিত করা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করা।

গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি নিহাদ কবির। আলোচনায় অংশ নেন আড়ং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সুপারশপ স্বপ্ন-এর বাণিজ্য বিষয়ক পরিচালক সাব্বির তানভির সোহেল খান, ইউনিমার্ট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা জামান, মীনা বাজার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন খান, বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিসেবিলিটি নেটওয়ার্ক-এর হেড অফ অপারেশনস আজিজা আহমেদ, আমানা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুল হক, ব্র্যাকের পরিচালক মারিয়া হক প্রমুখ।    

খুচরা খাতের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেই ব্র্যাক এসডিপি ‘প্রোগ্রেসিং দ্য রিটেইল সেক্টর বাই ইমপ্রুভিং ডিসেন্ট এমপ্লয়মেন্ট (প্রাইড)’ নামে একটি  প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের সঙ্গে খুচরা খাতের অংশীদারত্বে নিম্ন আয়ের শহুরে যুবকদের জন্য টেকসই জীবিকা প্রদানের জন্য একটি মডেল তৈরি করা।

আইকেইএ ফাউন্ডেশন এবং ইউবিএস অপটিমাস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে খুচরা বিক্রয় প্রকল্প সুবিধাবঞ্চিত শহুরে যুবকদের, বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ প্রদান করে। সেইসঙ্গে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে শিল্পের উন্নীতকরণে সহায়তা করে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘খুচরা খাতে নারীদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারমূলক কার্যক্রম নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আড়ং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ বলেন, ‘নিয়োগকর্তা হিসেবে আমাদের নারী ও পুরুষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আরও আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা এবং যৌন হয়রানি বিষয়ক নীতি থাকা উচিত। শুধু নারীদের জন্য নয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা শৌচাগার, শিফট ভিত্তিক কাজের সময়সূচি থাকা দরকার।’

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘খুচরা খাতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান করলেই হবে না, একইসঙ্গে সরবরাহ চেইনের গুনগত মানও উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, স্বীকৃতি প্রদানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা রাখতে হবে।’

মীনা বাজার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন খান বলেন, ‘নারীরা পুরুষ কর্মীর মতো কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন না–এটা অমূলক ধারণা। বাংলাদেশের নারী কর্মীরা এটা প্রমাণ করেছেন। আমরা খুচরা খাতে আরও নারী কর্মী চাই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি অনুসরণের চেষ্টা করি।’

বাংলাদেশের জিডিপিতে খুচরা শিল্প উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও এই খাতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ২০২০ সালে পরিচালিত একটি বেসলাইন জরিপে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতাদের খুব কম শতাংশই তাদের কর্মীদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় দেশের প্রথম স্বীকৃত খুচরা বিক্রয় প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছে ব্র্যাক এসডিপি। বর্তমানে এই মডিউলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনও পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকা এবং করোনা মহামারির পরও ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

খুচরা শিল্পে পুরুষেরই আধিপত্য, মাত্র ৮ শতাংশ আছেন নারী কর্মী। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা এবং শারীরিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম-এই মনোভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নারী কর্মী নিয়োগ করতে চায় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন যে, তাদের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার পরও বিশেষ কোনও ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়নি।

খুচরা বিক্রেতারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেওয়ার বিভিন্ন কারণ দেখান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তাদের জন্য ব্যবসার ধরণ উপযুক্ত নয়, কর্মক্ষেত্রে বাসস্থানের অভাব, তারা নিয়োগের আবেদন করে না প্রভৃতি।

 

 

/এসও/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম