বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আসাদগেটে আড়ংয়ের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ১৮ দফা দাবি তুলে ধরেন ঝর্ণা খানম।
ঝর্ণা খানম বলেন, ‘সব গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকদের মত প্রকাশের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। নাগরিকদের সমবেত হওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও জনগোষ্ঠীর ওপর বল প্রয়োগ করা যাবে না।’
মানববন্ধন থেকে আরও দাবি জানানো হয়, নারীর সমানাধিকার নিশ্চিতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইনগুলো পরিবর্তন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ধর্মী নিয়ে কোনও সহিংসতার ঘটনা যেন না ঘটে, এ জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ দ্রুততার সঙ্গে সংশোধন করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরও দাবির মধ্যে রয়েছে, সড়কে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রাম ও শহরের সব শ্রেণির মানুষকে সমতার ভিত্তিতে দিতে হবে। করোনার কারণে কর্মসংস্থান হারানো জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য কার্যকর এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির ফরিদ বলেন, ‘আজ আইন ও সালিশ কেন্দ্র যেসব দাবি উত্থাপন করেছে, সরকার এগুলো মেনে নেবে বলে আশা করি।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত কোনও হত্যাকাণ্ড হতে পারে না। মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’









