চার ছেলে; যে যার মতো নিজেদের সংসারে ব্যস্ত। পঁচাত্তুর বছর বয়সী বাবা মকবুল হাওলাদারের ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার বৃদ্ধ মকবুল হাওলাদারের দিন চলে মানুষের সহযোগিতায়। তার থাকার ঘরটি ছয় মাস আগে ঝড়ে ভেঙে যায়। ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তার ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশীর গরু রাখার ঘরে; যার চার পাশ খোলা। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এই শীতে রাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। অসুস্থ থাকলেও টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারি না। টাকার অভাবে ঠিক মতো খেতে পারি না।’
বিষয়টি নজরে এলে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সভানেত্রী জীশান মির্জা জানিয়েছেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে একটি নতুন ঘর তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি মো. কামরুজ্জামান সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গবাদিপশুর বর্জ্যের মধ্যে নিরুপায় হয়ে বসবাস করা আশ্রয়হীন ওই বৃদ্ধ ও তার মেয়েকে দেখার কেউ নেই। তীব্র শীতে গোয়ালঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে বিছানো খড়কুটা-ছেঁড়া কম্বল এখন তাদের আশ্রয়স্থল। পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জার উদ্যোগে অবশেষে ঘর পেতে যাচ্ছেন বৃদ্ধ মকবুল। ইতোমধ্যে বরগুনার পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নিজের ঘরে থাকতে পারবেন মকবুল।
পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আমরা সব সময়ই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। গণমাধ্যমের খবর দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুনাকের উদ্যোগে আমরা মকবুল হাওলাদার ও তার মেয়ের পাশে দাঁড়াবো। আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বসবাসের উপযোগী ঘর করে দিতে পারবো।’









