১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘ভারতের কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করছে’ এমনটা লিখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের নামে ব্যানার প্রকাশ করা হয়েছে। তার নামে এই ব্যানার নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরছেও। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিও করেছেন কেউ কেউ। কাউন্সিলরের দাবি, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিষয়টি উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন বলেও জানালেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভ্যানে করে এমন তিনটি ব্যানার নগরীর একটি সড়ক দিয়ে যাচ্ছে। তাতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি। নিচে লেখা, ‘১৯৭১ সালে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করছে পাক বাহিনী।’ পোস্টারে ডিএসসিসি, স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের লোগোও রয়েছে।
মো. রাহাত নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, ‘কাজটি যদি তিনি জেনেবুঝে করে থাকেন তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মহান বিজয় দিবসের এই দিনে কীভাবে এমন একটি কাণ্ড ঘটলো!’
জানতে চাইলে কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেকেই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাচ্ছে। আমরা তো রাজনীতি করি, পেছনে অনেক শত্রু। এখন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে পারি।’
সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহারসহ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কিনা জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। এটি আমাদের নলেজে নেই। কেউ আমাদের জানায়নি। কেউ বললে বিষয়টি আমাদের মেয়র দেখবেন।’
জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক শাহরিয়ার কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যক্তি নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। আমরা সব সময় যেটা বলে থাকি সেটি হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বিভিন্নভাবে হচ্ছে। এতে কিছু অজ্ঞতা কাজ করতে পারে। তবে বেশিরভাগই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এখন দেখতে হবে কে করেছে? এটা কি অজ্ঞতাবশত নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কাজ? জামাত-বিএনপি যেটা করে সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করে।’
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য আমরা ২০১৬ সাল থেকেই আন্দোলন করে আসছি। একটি আইনের খসড়া আইন কমিশনে জমা দিয়েছি। এটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ স্বীকৃত ইতিহাস-অপরাধ অস্বীকার আইন। আমরা মনে করি ’৭৫-এর পর থেকে ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। সচেতনভাবে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। যারা করছে তাদের শাস্তির জন্য এ আইন করতে হবে।’









