তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কূটকৌশলে দোকানে দোকানে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শনের মাধ্যমে কিশোর ও যুবকদের তামাকজাতদ্রব্য গ্রহণে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একইসঙ্গে রেস্তোরাঁয় ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান স্থাপনে অনৈতিকভাবে প্রণোদনাও প্রদান করছে।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) সহযোগিতায় সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। ‘ভয়েস অব ইন্টারেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট’ আয়োজিত এ সভায় সংস্থার জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, জরিপকৃত সমস্ত রেস্তোরাঁয় "আলোকিত রঙিন সজ্জিত বাক্স" (যার ভেতর সিগারেটের খালি প্যাকেট) বিজ্ঞাপনের উপকরণ হিসাবে প্রদর্শিত হতে দেখা গিয়েছে। যার সবগুলোতেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (BATB) সাইন বা লোগো পাওয়া গেছে। শতকরা ৭৩ ভাগ রেস্তোরাঁয় ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকায়, শতকরা ২৭ ভাগ রেস্তোরাঁর প্রবেশ বা প্রস্থান পথে এবং রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশন টেবিলের কাছে বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য তামাক কোম্পানি রেস্তোরার মালিকদের এককালীন নগদ আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। রেস্তোরাঁর অবস্থান অনুযায়ী—যার গড় পরিমাণ আট লাখ টাকা, সর্বোচ্চ পনের লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা এবং এই নগদ সুবিধা ব্যাংক চেক এবং ব্যাংক ট্রান্সফার এই দুই মাধ্যমে দেওয়া হয়। এই সুবিধা নেওয়ার সময় ৬০% রেস্তোরাঁ লিখিত চুক্তি করেছে এবং ৪০% মৌখিক চুক্তি করেছে।
আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকে। যেমন— টি-শার্ট, লাইটার, অ্যাশ ট্রে, রান্নার জিনিস, কফি মগ, তামাকজাত দ্রব্য, কম দামে তামাকজাত দ্রব্য, প্লেট বা গ্লাস, কোভিড প্রতিরক্ষামূলক সামগ্রী, নতুন সিগারেট ব্র্যান্ডের বিনামূল্যে নমুনা ইত্যাদি।
সভায় বক্তব্য রাখেন—সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহল হক এমপি, অসীম কুমার উকিল এমপি; জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের অতিরিক্ত সচিব এবং সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল ও অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ।









