দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় ওয়ান ব্যাংকের গুলশান শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. এমরান হোসেনকে পুলিশে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে মামলায় অপর দুই আসামি এমরান হোসেনের মা পেশোয়ারা বেগম এবং রাকিবা জাহানকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন আদালত।
আসামিদের আগাম জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৩ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আসামি মো. এমরান হোসেন ও তার মা পেশোয়ারা বেগমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও রাকিবা জাহানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ভুঁইয়া।
এর আগে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চারটি বিমা কোম্পানির প্রায় সাড়ে ১১ কোটি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ওয়ান ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউল আলম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বিমলেন্দু চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড রিলেশনশিপ ম্যানেজার মুনতাসির রহমান সিদ্দিকী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আদিল, জুনিয়র অফিসার মো. শামিম।
এছাড়া ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু কালাম মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. এমরান হোসেন ওরফে মোহাম্মদ এমরান হোসেন, ব্যাংকের গ্রাহক আজিজুর রহমান, রাকিবা জাহান, তানভীর হোসেন, পেশোয়ারা বেগম ও সুবু তারা হাওলাদারের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে— আসামিরা ২০১৯ সালের ৫ মার্চ থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ‘পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে’ চারটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ভিন্ন ভিন্ন হিসাবসহ অন্যান্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার হিসাবে (অ্যাকাউন্ট নম্বরে) ‘অবৈধভাবে’ ১১ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৯২১ টাকা স্থানান্তর করে।
পরে ওই অর্থ বিভিন্ন কৌশলে উত্তোলন করে আসামিরা ‘আত্মসাৎ ও পাচার’ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
চারটি বিমা কোম্পানি হলো— পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।









